


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: নিজস্ব বাড়ি না থাকায় জেলার বহু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সমস্যায় ভুগছে। এইসব কেন্দ্রগুলির হয় কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে এক কোণে ঠাঁই হয়েছে, অথবা সেগুলি সরকারি কমিউনিটি হল কিংবা সরকারি অফিসের এক চিলতে জায়গায় চলছে। অনেক কেন্দ্র ভাড়াবাড়িতেও চলছে। ফলে নানা সময়ে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের পড়াশোনা ও মিড ডে মিল রান্না।
বিভিন্ন সময়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীরা তাঁদের সমস্যার কথা প্রশাসনিক কর্তাদের কানে তুলেছেন। সমস্যার সমাধানে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের স্থায়ী ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। তবে উপযুক্ত জমি না মেলায় সেই কাজ আজও হয়নি। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে প্রায় দু’ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। জেলার ডিপিও আইসিডিস তপন সাহা বলেন, বেশকিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। বর্তমানে সেসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সরকারি ভবন ও ভাড়াবাড়িতে চলছে। তবে, আমাদের তরফে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্যই স্থায়ী ভবন নির্মাণের চেষ্টা রয়েছে। জমি পাওয়া গেলেই নির্মাণ কাজ করা হবে। অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ৪ হাজার ৯৪৫টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ১০৪টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব স্থায়ী ভবন রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৮৪১টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। এরমধ্যে মোট ১২টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়াবাড়িতে চলছে। বাকি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির কোনওটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবার কোনও কমিউনিটি হল কিংবা সরকারি কোনও ভবনে চলছে। এরমধ্যে গুটিকয়েক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আবার খোলা আকাশের নীচেও চলছে। জেলার বলরামপুর হাসপাতাল মোড় লাগোয়া ১৪৭ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সেই তালিকায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, খোলা আকাশের নীচে ত্রিপল টাঙিয়ে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না হয়। ফলে বর্ষার মরশুমে পড়াশোনা থেকে মিড ডে মিল সবেতেই ব্যাঘাত ঘটে।
পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, একেকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সর্বনিম্ন জমির প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি সরকারি কিংবা দানের মাধ্যমে পাওয়া গেলেই নির্মাণ শুরু করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য দু’টি ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচাগার তৈরি করা হবে। খরচ আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকা। তবে প্রথমে উপযুক্ত জমি চাই। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, প্রায় দু’ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য প্রতিটি ব্লকে জমি খোঁজা হচ্ছে। সেইসঙ্গে একাধিক বেহাল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংস্কারের কাজও হবে। - ফাইল চিত্র