সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া নলহাটির উদয়নগর গ্রামে শ্যুটআউটের ঘটনায় দুই সুপারি কিলারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বুধবার রাতে নলহাটি থানা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। শ্যুটআউটে ব্যবহৃত বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম কলিম আনসারি ও সামাউল আনসারি। দু’জনেরই বাড়ি ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়ায়। গত ২ আগস্ট রাতে সীমানা সংলগ্ন উদয়নগর গ্রামে আচমকা বাইকে চেপে হেলমেট ও মাস্ক পরা চার সশস্ত্র দুষ্কৃতী হানা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলাকা লক্ষ্য করে পর পর প্রায় ১১ রাউন্ড গুলি চালায় তারা। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে মারাত্মকভাবে জখম হন স্থানীয় বিস্ফোরক কারবারি বিকি শেখ, তাঁর জামাই জনি শেখ এবং বন্ধু হাবিবুল হোসেন। এই হামলার পর দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে দ্রুতগতিতে ঝাড়খণ্ডের সীমানার দিকে চম্পট দেয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। পুলিশ হামলাকারীদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, বিস্ফোরকের কারবার নিয়ে রেষারেষি ও আক্রোশ থেকেই গুলি চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার শালতোড়ায় চলন্ত বাইকে বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে গত ২৫জুলাই নলহাটি পাথর শিল্পাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। নলহাটির একটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি বিস্ফোরক উদ্ধার সহ মহম্মদ রাকিব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার মাত্র চারদিনের মাথায় আবারও নলহাটির পাথর শিল্পাঞ্চলের আরেকটি গোডাউনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রচুর বেআইনি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করে। পরপর কেন্দ্রীয় সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশের এই তৎপরতায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে এলাকার বহু বেআইনি বিস্ফোরক ব্যবসায়ী।
জখম বিকির বাবা জানে আলম শেখের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা মনে করছিল তাঁর ছেলেই তদন্তকারীদের গোপন তথ্য যোগাচ্ছে। সেই সন্দেহে আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকেই বিকিকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে খুনের পরিকল্পনা কষা হয়। অবশেষে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার দেড় মাস পর গত শনিবার এই শ্যুটআউটের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের ডমনগড়িয়া গ্রাম থেকে রাজা মিঁয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাকে টানা জেরা করতেই উঠে আসে দুই সুপারি কিলারের নাম। এরপরই অভিযান চালিয়ে কলিম ও সামাউলকে ধরা হয়। তবে কারা কত টাকায় এই সুপারি কিলারদের ভাড়া করেছিল, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তা এখনও খোলসা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই শ্যুটআউটের ঘটনায় আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।