চণ্ডীগড়, ২৬ সেপ্টম্বর: বিয়ের জন্য বাবা-মায়ের উপর চাপ দিচ্ছিল ১৮ বছরের ছেলে। প্রেমিকাকে এখনই বিয়ে করতে চেয়েছিল সে। কিন্তু বাবা সাফ জানিয়েছিলেন, ২১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই নিয়ে অশান্তির পরদিনই নিজের সরকারি আবাসনে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হল তাঁর দেহ। অভিযোগের তির তাঁর ১৮ বছরের ছেলে আরমানের দিকে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। মৃতের নাম নীতিন সিং। তিনি চণ্ডীগড় পুলিশের হেড কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২২ এর আবাসন থেকে উদ্ধার হয় নীতিনের দেহ। মাথায় গুলির আঘাত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার আগের সন্ধ্যাতেই ছেলে আরমানের সঙ্গে বাবা-মায়ের তীব্র বচসা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, আরমান তার প্রেমিকাকে দ্রুত বিয়ে করতে চাইছিল। সে চেয়েছিল, মেয়েটিকে বাড়িতে এনে বিয়ের ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু বাবা-মা তাতে রাজি হননি। তাঁরা ছেলেকে বোঝান, ভারতে পুরুষদের বিয়ের আইনসঙ্গত বয়স ২১ বছর। তাই সেই বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেই বিয়ে করতে হবে। পাশাপাশি নিজের নানা প্রয়োজনের জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকাও চাইছিল আরমান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে আরমানের তুমুল বচসা হয়। বাবা-মা তাঁর দাবি মেনে না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুধু বাবাকেই নয়, মায়ের উপরও হামলার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, আরমান তাঁর মায়ের গলা চেপে ধরেছিল। কোনওরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছাদে উঠে যান তিনি। সেখান থেকেই প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান।
আরমানের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর মামলা রয়েছে। চলতি বছরে তার একটি বন্ধুর গাড়ি চালানোর সময় একটি বাইকে ধাক্কা মারে সে। বাইকে থাকা দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল আরমান। সেই মামলায় জামিনে থাকা অবস্থাতেই এবার নিজের বাবাকে হত্যার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে। পুলিশের বক্তব্য, বাবার মৃত্যুর পরও আরমানের মধ্যে বিশেষ অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। এখন গোটা ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, গুলি কীভাবে চালানো হল আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথার থেকে এল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।