


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: খরিফ মরশুমে নদীয়া জেলার ৬ লক্ষ ৪১ হাজার চাষি পেলেন ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের টাকা। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে। এবার মোট ১৬৩ কোটি টাকা চাষিদের দেওয়া হচ্ছে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক চাষির ক্ষতি হয়েছে। এই অর্থ সাহায্যে তাঁদের কিছুটা হলেও রেহাই মিলবে বলে মনে করছে প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে চাষিদের অ্যাকাউন্টে দ্রুততার সঙ্গে এই টাকা দেওয়া তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
নদীয়া জেলার কৃষি উপ অধিকর্তা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, খরিফ মরশুমে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আমাদের নদীয়া জেলার কয়েক লক্ষ চাষির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর খরিফ মরশুমে নদীয়া জেলার ৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৯৪ জন চাষিকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে মোট ১৬৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড বলেই মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে রাজ্যের কৃষকদের ও বর্গাদারদের বছরে দুই কিস্তিতে একর প্রতি ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। যাঁদের কম জমি আছে, তাঁরাও ৪ হাজার টাকা সহায়তা পান। মূলত ফসলের কোনও ক্ষতি হলে কিংবা চাষের কাজে ব্যবহৃত সার কেনার জন্য সেই টাকা ব্যবহার করতে পারেন চাষিরা।
২০১৯ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চালু করেন ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে দু’টি কিস্তিতে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়। খরিফ মরশুমের টাকা কৃষকদের দেওয়া হয় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। রবি মরশুমের টাকা দেওয়া হয় অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে।
প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মোট ২৪,০৮৬ কোটি টাকা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কৃষকের কাছে।
রাজ্যের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় নদীয়া জেলায় মৃত চাষিদের পরিবারকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মোট ১১৯৩ জন চাষিকে সেই টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে নদীয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের ১১৬৯ জন মৃত চাষি, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ১৬০০ মৃত চাষি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ৯০০ জন মৃত চাষির পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।
নদীয়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেন। কৃষক বন্ধু তার মধ্যে অন্যতম প্রকল্প। এখন চাষিদের জমির বীজ কেনা থেকে শুরু করে সার কেনার জন্য সেভাবে ভাবতে হয় না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্য করা হয়।
নাকাশিপাড়ার চাষি বিমল দাস বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য এবছর ফসলের একটু ক্ষতি হয়েছিল। কৃষক বন্ধুর টাকা আমার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। খুব উপকার হয়েছে আমাদের।