


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং সেক্টর থেকে সোনার বিনিময়ে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ১৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই অঙ্ক পিছনে ফেলে দিয়েছে পার্সোনাল লোনকে। এক্ষেত্রে সবার আগে এবারও রয়েছে গৃহঋণ। উল্লিখিত সময়সীমায় দেশের তাবৎ ব্যাংক মিলিয়ে গৃহঋণের পরিমাণ ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা। এতদিন তার ঠিক পরই ছিল পার্সোনাল লোন। পার্সোনাল লোনের আওতায় থাকে যে কোনও কাজের জন্য ঋণ। বাড়ি মেরামতি থেকে কোনও পণ্য ক্রয়। পুরনো ঋণ মেটানো অথবা পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠান। সব কিছুতেই পার্সোনাল লোন নেওয়ার চল রয়েছে। তাই গৃহঋণের পরই ছিল ব্যাংক ব্যবসার প্রধান মাধ্যম পার্সোনাল লোন। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যে হিসাব দেখা যাচ্ছে, সেখানে পার্সোনাল লোনের পরিমাণ হয়েছে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ সোনা বন্ধক রেখে লোন নেওয়ার পরিমাণের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা কম। এই প্রবণতার প্রধান কারণ সোনার বিপুল মূল্যবৃদ্ধি। দু বছর আগেও যে পরিমাণ সোনা বন্ধক রেখে যত টাকা লোন পাওয়া যেত, সেই অঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কারণ সমপরিমাণ সোনার দামও বেড়েছে ততটাই। ২০২৪ সালে মোট যত ঋণ নেওয়া হত ব্যাংক থেকে, তার মাত্র ৭ শতাংশ ছিল গোল্ড লোন। কিন্তু দু বছরের মধ্যে গোল্ড লোনের পরিমাণ হয়েছে দ্বিগুণ। ১৪ শতাংশ। ভারতে এখন ১১৩ লক্ষ কোটি টাকা রয়েছে ব্যাংক থেকে ঋণের অঙ্ক। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বলেছেন, সোনার দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গোল্ড লোনের পরিমাণ যে হারে বাড়ছে, সেটা দেখে ব্যাংকিং সেক্টরের অনুমান আরও ঊর্ধমুখী হতে চলেছে সোনার দাম। অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর ভাষায় এই মূল্যবৃদ্ধি নিছকই মরশুমি বলে আদৌ মনে করছে না শিল্পমহল। তাদের অনুমান, দাম বাড়তেই থাকবে।