Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে দেড় হাজার সিপিএম নেতা-কর্মী ঘরছাড়া, শাসকদলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় দেড় হাজার সিপিএম নেতা-কর্মী ঘরছাড়া রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন জেলার বাম নেতারা।

পশ্চিম মেদিনীপুরে দেড় হাজার সিপিএম নেতা-কর্মী ঘরছাড়া, শাসকদলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় দেড় হাজার সিপিএম নেতা-কর্মী ঘরছাড়া রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শাসকদলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন জেলার বাম নেতারা। রবিবার মেদিনীপুর শহরের জেলা পার্টি অফিস থেকে একযোগে আন্দোলনের ডাক দিল বামফ্রন্ট। সেই সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের আহ্বান জানিয়ে দরজা খোলা রাখার বার্তাও তারা দিয়েছেবামফ্রন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর পুলিশ সুপারের অফিস অভিযান করবে বামফ্রন্ট। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বামনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাম নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হলেও পুলিশ তাদেরই কর্মী সমর্থকদের গ্রেপ্তার করছে। এই সমস্ত অভিযোগকে সামনে রেখে তারা আন্দোলনে নামছে। 

Advertisement

এদিন মেদিনীপুর শহরে জেলা পার্টি অফিসের কনফারেন্সে হলে বসে সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, শুধু গড়বেতাতেই এক হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাম নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। অথচ পুলিশ বাম নেতাদেরই গ্রেপ্তার করছে।
এরপরই তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বিজয়বাবু বলেন, আমরা বারবার তাঁদের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা দুর্নীতি করেছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছে, তাদের বাদ দিয়ে বাকিদের বামপন্থায় আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের পর থেকে জঙ্গলমহলে ধীরে ধীরে সিপিএমের শক্তমাটি আলগা হতে শুরু করে। নেতাই, বেনাচাপড়া ও ছোটো আঙারিয়ার মতো ঘটনা সামনে আসতেই বাম শিবির অস্বস্তিতে পড়ে। যা একেবারেই ভাল চোখে দেখেনি সাধারণ মানুষ। পরে মাওবাদী আন্দোলনের জেরে বাম নেতার দিশাহারা হয়ে যায়। ফলে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।  ২০১৭ সাল থেকে জেলায় গেরুয়া শিবিরের উত্থানে আরও চাপে ফেলে সিপিএমকে। জেলার প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে উঠে আসে বিজেপি। বামেদের ভোটব্যাংকে ধস নামতেই রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে ‘আগে রাম, পরে বাম’ স্লোগান।
বাম নেতাদের কথায়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে বিজেপি নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে। সেই জায়গা নিতে পারেনি সিপিএম। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন সহ একাধিক নির্বাচনে পরাজিত হলেও গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাংক ক্রমশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় সিপিএমের ভোট ১০ শতাংশের নীচে নেমে যাওয়ার ছবি সামনে এসেছে। এক বাম নেতার দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের ভাঙনের জেরে গ্রামে গ্রামে ফের লাল পতাকা উড়তে শুরু করেছে। শনিবার বাম সমর্থিত আইনজীবীদের উপরও হামলা চালানো হয়েছে। সিপিএমের কর্মসূচিতে ভিড় বাড়লেই আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ২০ জনের বেশি বাম নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হার্মাদ শাসন আর ফিরবে না। জেলায় সিপিএমের অস্তিত্ব নেই। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, সিপিএমের অত্যাচার মানুষ আজও ভোলেনি। আর বিজেপি কী করছে, তাও মানুষ দেখতে পাচ্ছে।  রবিবার মেদিনীপুর শহরের জেলা পার্টি অফিসে সিপিএমের সাংবাদিক সম্মেলন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ