বন্ধ ১৪ ফেরিঘাট, পুজোয় শহরতলির ভিড় নিয়ে উদ্বেগ, বকেয়া বেতন, বোনাসের দাবিতে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণে কর্মবিরতি
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোয় কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার অন্যতম ভরসা ফেরি পরিষেবা। অথচ চতুর্থীর দুপুর থেকেই হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ১৪টি ঘাট থেকে বন্ধ হয়ে গেল ফেরি। দু’মাসের বকেয়া বেতন ও পুজোর বোনাস না পেয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। ফলে পুজোর দিনগুলিতে হাওড়া স্টেশনে নামা লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর কলকাতায় পৌঁছানো নিয়ে বড়োসড়ো সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে সীমিত বাস ও ক্যাবের উপর নির্ভর করে কীভাবে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলানো যাবে, উঠছে সেই প্রশ্নও।

Advertisement

মঙ্গলবার বিকালেই হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখিয়ে কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পাওনা না মিটলে বুধবার দুপুর ২টোর পর থেকে পরিষেবা বন্ধ করে দেবেন তাঁরা। সেই হুঁশিয়ারিই কার্যকর হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন বকেয়া থাকার পাশাপাশি পুজোর বোনাস না মেলায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুজোর মুখে পরিবারের শিশুদের জন্য নতুন পোশাক কেনা সম্ভব হয়নি। আর্থিক সমস্যা ঘিরে ধরেছে। বাধ্য হয়েই কর্মবিরতির পথে হাঁটতে হয়েছে তাঁদের।
সমিতির ২৫০ থেকে ২৬০ জন কর্মী হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মেনিয়ান, প্রিন্সেপ ঘাটসহ বিভিন্ন রুটে ফেরি চালান। বাউড়িয়া ও নুরপুর জলপথেও পরিষেবা দেন তাঁরা। বুধবার দুপুরের পর থেকে এই ঘাটগুলিতে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। পুজোর ভিড়ে হাওড়া স্টেশনে নেমে ফেরি ধরে কলকাতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। তাঁদেরও বিকল্প পরিবহণ খুঁজতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতি বছর পুজোর দিনগুলিতে গভীর রাত পর্যন্ত ফেরি চলে। এবার সেই পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে ভিড় সামলানো কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা।
কর্মীদের দাবি, পুজোর সময় সমিতির ১৪টি ঘাটে টিকিট বিক্রি থেকেই কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়ে বকেয়া বেতন মেটানো সম্ভব। তা সত্ত্বেও পাওনা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের। এদিকে সমিতির নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ না থাকায় হাওড়া জেলা সমবায় দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটি (এআরসিএস) প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহণ দপ্তর ও জেলা পরিষদকে ভাড়া বাবদ টাকা মেটাতে হয়। বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বোনাস দেওয়া হবে কি না, তা সমবায় দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঠিক করবেন। পরিষেবা স্বাভাবিক করার আবেদন জানানো হলেও কর্মীরা পুজোর দিনগুলিতে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে উৎসবের মরশুমে জলপথে যাতায়াতের অনিশ্চয়তা কাটার স্পষ্ট আশ্বাস নেই।