বাঁকুড়ায় মণ্ডপের ভিড়ে সোনার চেন ছিনতাই চক্রের ১৩ জন ধৃত
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কেপমারি ও চুরির অভিযোগে নয় মহিলা সহ মোট ১৩ দুষ্কৃতীকে দশমীর রাতে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা শহরের একটি লজে ঘাঁটি গেড়ে পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে সোনার চেন কেপমারি ও চুরি করেছে বলে অভিযোগ। ধৃতদের বাড়ি হুগলির চুঁচুড়ায়। তারা আন্তঃজেলা কেপমারি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের দাবি। বৃহস্পতিবার ওই ১৩ জনকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ বলেন, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি সহ অন্যান্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তমী ও অষ্টমীর সন্ধিপুজোর সময় বাঁকুড়া শহরের মহামায়াতলা ও কেন্দুয়াডিহি কাটজুরিডাঙা ইলেক্ট্রিক সাব স্টেশন মোড় এলাকার একটি মণ্ডপের সামনে থেকে দুই মহিলার গলায় থাকা সোনার চেন খোয়া যাওয়ার অভিযোগ থানায় জমা পড়ে। পরপর একই ধরনের ঘটনায় পুলিশ নড়েচড়ে বসে। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা ওই দুই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন। তাতে সন্দেহজনক এক মহিলাকে চিহ্নিত করা যায়। ওই মহিলার সূত্র ধরে পুলিশ গোবিন্দনগর এলাকার একটি লজে হানা দেয়। সেখান থেকে তাকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে ওই মহিলাকে জেরা করে পুলিশ বাকি দুষ্কৃতীদের ব্যাপারে জানতে পারে। সেইমতো অভিযান চালিয়ে প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি সোনার চেন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে কাটজুড়িডাঙা মোড় ও মহামায়াতলা থেকে চুরি যাওয়া চেন দু’টিও রয়েছে। অন্য সোনার চেনের দাবিদার অবশ্য পাওয়া যায়নি। 
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, চোরবাগানের ঘটনার পর বাঁকুড়ায় পুজোর দিনগুলিতে বেশকিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বাহির পথের পরিস্থিতি তাঁরা খতিয়ে দেখেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং পুজো উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।  মণ্ডপের পাশাপাশি জেলার রাস্তাঘাটেও কড়া নজরদারি চলে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গোলমাল পাকানো সহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাঁকুড়া সদর থানা এলাকা থেকে ৫০ জনকে পুজোর দিনগুলিতে আটক অথবা গ্রেপ্তার করা হয়। জেলার বাকি থানা এলাকাগুলিতেও পুলিশ এব্যাপারে সক্রিয় ছিল। গত বছর পুজোর দিনগুলিতে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কের বড়জোড়া ব্যারাজ ও বাঁকুড়া-রানিগঞ্জ জাতীয় সড়কের দুর্লভপুর মোড় এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তার ফলে দর্শনার্থী সহ অন্যান্যদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এবার সংশ্লিষ্ট থানা ও ট্রাফিক ফাঁড়ি উদ্যোগে সেখানে সুষ্ঠুভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। বাঁকুড়া শহর ও সংলগ্ন এলাকাতেও এনিয়ে খুব বেশি সমস্যা হয়নি।  সোনার চেন ছিনতাই চক্রের ধৃতদের বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র