সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ল ১১ ছাত্রী। ঘটনার জেরে তীব্র শোরগোল ছড়ায় ফরাক্কা সার্কেলের রঘুনাথপুর ৯২ নম্বর প্রাথমিক স্কুলে। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে আতঙ্কে ছড়ায় এলাকায়। তবে চিকিৎসার পর আপাতত সব পড়ুয়াই সুস্থ ও বিপদমুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, ঘটনার পরের দিনই বাচ্চাদের মনের ট্রমা কাটাতে মিড ডে মিলের খাবারের পাতে বাড়তি একটি করে রসগোল্লা তুলে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। যদিও এদিন উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম ছিল বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার স্কুলে মোট ৯১ জন পড়ুয়া মিড ডে মিলের খাবার খেয়েছিল। মেনুতে ছিল ভাত ও সয়াবিনের তরকারি। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ বাদেই ১১ জন ছাত্রী তীব্র গলা ও বুক জ্বালা, পেটে যন্ত্রণা এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে কালবিলম্ব না করে প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার রায় ও অন্য শিক্ষকরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত গাড়ি জোগাড় করেন। অসুস্থ ছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় বেনিয়াগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি চিকিৎসা শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ছাত্রীদের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার পর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আচমকাই কেন এমন ঘটল, তা নিয়ে ধন্দে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা।
প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলে ইতিপূর্বে এমন ঘটনা ঘটেনি। অনেক সময় বাচ্চারা বাইরে থেকেও বিভিন্ন খাবার কিনে খায়। তবে ঠিক কী কারণে এমন হল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে, তার জন্য রাঁধুনিদের রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, ধোয়া-মোছা ও রান্নার উপকরণ ভালভাবে পরিষ্কার করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, আতঙ্ক কাটিয়ে ফের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন শিক্ষকরা। এদিন খাবার শেষে প্রত্যেক পড়ুয়াকে অতিরিক্ত একটি করে রসগোল্লা দেওয়া হয়। এখন নিয়মিত নতুন পদ দেওয়া হবে। তবে খাবারের গুণমান ও অসুস্থতার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানান অভিভাবকরা।