Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওয়ানদিঘিতে বাস উল্টে মৃত ১, জখম প্রায় ৪০

সোমবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার ভাণ্ডারডিহিতে বাস উল্টে এক যাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। প্রায় ৪০জন জখম হয়েছেন। বাসটি আসানসোল থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার পথে ভাণ্ডারডিহিতে কালভার্টে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়।

দেওয়ানদিঘিতে বাস উল্টে মৃত ১, জখম প্রায় ৪০
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সোমবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার ভাণ্ডারডিহিতে বাস উল্টে এক যাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। প্রায় ৪০জন জখম হয়েছেন। বাসটি আসানসোল থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার পথে ভাণ্ডারডিহিতে কালভার্টে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। যাত্রীদের অনেকে বাস থেকে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা জানলা ভেঙে কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করেন। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সুবোধ মণ্ডল(৬৭)। তাঁর বাড়ি নাদনঘাট থানা এলাকায়। এদিন তিনি স্ত্রীর সঙ্গে বর্ধমানে ডাক্তার দেখিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরছিলেন। জখম যাত্রীদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত বেশি। আহতদের মধ্যে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং একটি শিশু রয়েছে। হাসপাতালে যান অতিরিক্ত পুলিস সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

জখম যাত্রী আকবর শেখ বলেন, চালক বর্ধমান ছাড়ার পর থেকেই বাসের গতি বাড়াতে থাকে। যাত্রীরা প্রথম থেকেই আতঙ্কে ছিলেন। চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে কালভার্টে ধাক্কা মারে। রাস্তায় বাঁক ছিল না। তারপরও চালকের ভুলেই দুর্ঘটনা হয়। বাসটি প্রথমে ইলেক্ট্রিক পোলে ধাক্কা মারে। পরে কালভার্টে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। আরেক জখম যাত্রী বলেন, বাসে প্রায় ৬০জন ছিলেন। দূরপাল্লার বাসগুলির চালক বধর্মান ছাড়ার পরই গতি বাড়িয়ে দেয়। ওই সময়ে আরও কয়েকটি বাস থেকে। কে বেশি যাত্রী তুলবে, তা নিয়ে চালকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে। তারজন্য বারবারই দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগেই এই রুটের আরও একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। চালকদের সতর্ক করতে প্রশাসন বারবার সচেতনতামূলক প্রচার করেছে। তারপরও দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না। যাত্রীরা বলেন, দ্রুতগতিতে বাস চালানোর সময় চালকরা অনেক সময় ফোনে কথা বলে। কেউ কেউ আবার হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও সেসবে কান দেয় না। বেশিরভাগ বাসই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। এদিনের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসেও বেশি যাত্রী ছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে অনেকে মহিলা এবং বয়স্ক যাত্রী ছিলেন। তাঁদের অনেকেরই মাথায় চোট লেগেছে। যাঁরা অল্প জখম হয়েছেন, তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয়। তবে যাঁদের আঘাত বেশি, তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিস জানিয়েছে, আবার বৈঠক করা হবে। দ্রুতগতিতে তাঁরা যাতে বাস না চালান সেই পরামর্শ দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ