


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: যুবক-যুবতীদের নিয়ে আশায় ছিল বিজেপি। তাদের ধারণা ছিল, নতুন ভোটারদের বড়ো অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবিত হয়ে তাদের দিকে ঝুঁকবে। কিন্তু যুবসাথী প্রকল্প তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে তারা উচ্ছ্বসিত। শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই পাঁচ হাজার ৩৭১জন যুবক-যুবতীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। জেলায় প্রায় ১৩লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে। বিধবাভাতা পাচ্ছেন ১ লক্ষ ৩৬হাজার ৩৬৮জন। ২ লক্ষ ১৫হাজার ৩৭২জন বার্ধক্যভাতা পাচ্ছেন। জেলার বিপুল সংখ্যক ভোটার বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় বিজেপির রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। এতদিন মহিলা বা ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু ছিল। এবার যুবসাথী প্রকল্প চালু করে যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার।
যুবক-যুবতীরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। রেল, সেইল বা ইসিএলের মতো সংস্থাগুলিতেও নিয়োগ কমে গিয়েছে। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট বা চিত্তরঞ্জন লোকমোটিভ কারখানাও ধুঁকছে। নতুন করে নিয়োগ হয়নি। বিজেপি কর্মসংস্থান ইস্যুতে রাজ্যের ঘাড়ে দায় চাপাতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিতে নিয়োগ নিয়ে তাদের টুঁ শব্দ করতে দেখা যায়নি। বর্ধমানের বাসিন্দা চঞ্চল ঘোষ বলেন, যুবসাথীর টাকায় যুবক-যুবতীরা উপকৃত হবেই। অনেকেই অর্থের অভাবে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারতেন না। তাঁদের সমস্যা দূর হবে। ওই টাকায় বই কিনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। এটা কম বড়ো বিষয় নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে যুবসাথী প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকার মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। এতদিন যেসমস্ত যুবক-যুবতীরা সমালোচনা করতেন, তাঁদের গলাতেও উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, নতুন ভোটার বা যুবক-যুবতীদের নিয়ে চিন্তা ছিল। তাঁদের অনেকেই সরকারের সমালোচনা করতো। কিন্তু এখন তাঁরা সরাসরি সুবিধা পাওয়ায় অনেকেই নিজেদের অবস্থান বদল করবেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার বলেন, যুবসাথী প্রকল্প যুবক-যুবতীদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য চিন্তা করতে হয় না। সরকার বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে। উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। যুবসাথী প্রকল্পের টাকায় যুবক-যুবতীরা চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এই প্রকল্প তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করাতে সাহায্য করবে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, যুবক-যুবতীরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যোগ্যরা চাকরি পাচ্ছে না। তৃণমূল ভাবছে ভোটের আগে অল্প কিছু টাকা দিয়ে তাদের মন জয় করবে। তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না। তরুণ-তরুণীরা সরকার বদলের শপথ নিয়ে ফেলেছেন।