Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু

আট কোটি টাকা খরচে বাঁকুড়া পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা(সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

বাঁকুড়া পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু
  • ২৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আট কোটি টাকা খরচে বাঁকুড়া পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা(সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। শুক্রবার থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এদিন মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা প্রকল্পের কাজ শুরুর তদারকি করেন। মেশিনের সাহায্যে তাঁরা প্রকল্প এলাকা জরিপও করেন। 

Advertisement

বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার বলেন, কেশরা এলাকায় পুরসভার জঞ্জাল জমা হয়। সেখানে বেশ কয়েকবিঘা এলাকাজুড়ে আমাদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড রয়েছে। ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের মধ্যেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প গড়ে উঠছে। মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট ওই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে। 
মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, সরকারের তরফে প্রকল্পের জন্য প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা এদিন কাজ শুরুর বিষয়টি তদারকি করেছি। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের মধ্যে দেড় হাজার বর্গমিটারজুড়ে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ হবে। রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর ও বাঁকুড়া পুরসভার সঙ্গে আমরা ওই প্রকল্প রূপায়ণ করছি।  
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের ২৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন কয়েক টন জঞ্জাল নিষ্কাশন হয়। দিনের পাশাপাশি রাতেও শহরের জঞ্জাল সাফাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহেরও ব্যবস্থা রয়েছে। ওইসব জঞ্জাল প্রথমে শহরের ভ্যাটগুলিতে জমা হয়। সেখান থেকে কম্প্যাক্টর মেশিনের সাহায্যে জঞ্জাল বহনকারী যানবাহনে তোলা হয়। তা ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কেশরা এলাকার ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। সেখানে ওইসব আবর্জনা স্তূপাকার করে রাখা হয়। দিনদিন জঞ্জাল বাড়তে থাকায় তা রাখার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পুর কর্তৃপক্ষকে চিন্তায় ফেলতে পারে। স্থান সঙ্কুলানের পাশাপাশি দূষণের দিকটিও পুরসভার আধিকারিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। ফলে কঠিন বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে পুরসভার কর্তারা মনে করছেন। সেই কারণেই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। 
ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, আট কোটি টাকা খরচে প্রাথমিকভাবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হয়। অফিসঘর, বর্জ্য সংগ্রহ করে রাখার ব্যবস্থা সহ অন্যান্য পরিকাঠামোগত নির্মাণের কাজই প্রাথমিকভাবে শুরু করা হচ্ছে। তারপর প্রয়োজনীয় মেশিন আনা হবে। তা বিদেশ থেকে আসতে পারে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। সেইসব মেশিনের সাহায্যে প্রথমে জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে। পরে জৈব বর্জ্য থেকে সার সহ অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করা হবে। অজৈব বর্জ্যের মধ্যে প্লাস্টিককে আলাদা করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ থেকে বিশেষ এক ধরনের মণ্ড তৈরি করা হবে। শক্ত ওই মণ্ড রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হবে। যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ