ঢাকা: পাঠাগারে ‘নাস্তিক’ লেখকদের বই রাখা চলবে না! এই ধুয়ো তুলে এবার বাংলাদেশের পাঠাগারে হামলা চালাল মৌলবাদীরা। সমাজমাধ্যমে আগে থেকে ঘোষণা করে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার ওই পাঠাগারে তাণ্ডব চালায় এক মৌলবাদী সংগঠন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুল ইসলামের বিভিন্ন বই ছিল তাদের মূল টার্গেট। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, প্রায় ৫০০ বই লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ছাড়াও হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, জাফর ইকবাল সহ দুই বাংলার বহু নামী লেখকের বইও লুট করা হয়। এই অপকর্মে বাধা দিলে গ্রন্থাগারে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় দুষ্কৃতীরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর হইচই শুরু হয়। চাপের মুখে বস্তায় ভরে বইগুলি স্থানীয় প্রশাসনের অফিসে ফেরত দিয়ে যায় ওই সংগঠনের সদস্যরা। মৌখিকভাবে আপাতত ভুল স্বীকার করে নিয়েছে তারা। তবে ‘পরিবর্তনে’র বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের বই রাখাও আর নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও মৌলবাদীদের ভয়ে সরাসরি মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা।
২০১৫ সালে ধনবাড়ির বাঁশহাটি এলাকায় ‘অভয়ারণ্য পাঠাগার’ নামে ওই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা হয়। এর আগেও গ্রন্থাগারটি মৌলবাদীদের রোষের মুখে পড়েছিল। খেলাফত মজলিস নামে ওই সংগঠনের যুব সম্পাদক গোলাম রব্বানি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন, ‘ধনবাড়িতে নাস্তিক্যবাদের কোনও জায়গা হবে না। নাস্তিক বানানোর এক কারখানার সন্ধান পেয়েছি আমরা।’ এরপরই ওই সংগঠনের ২০-২৫ জন গ্রন্থাগারে হামলা চালায়। অভয়ারণ্য পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক দুর্জয়চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘হামলাকারীরা বলছিল, উপর থেকে নির্দেশ আছে এটা ভেঙে দেওয়ার, পুড়িয়ে দেওয়ার।’ বই ফেরত্ দেওয়ার আগে রব্বানি বলেন, ‘গ্রন্থাগারে বিভিন্ন লেখকের বই ছিল যেগুলোতে নারীদের অধিকার আর ইসলাম বিদ্বেষ সংক্রান্ত লেখা ছিল। তবে আমরা ভুল করেছি। সব বই ফেরত দেওয়া হয়েছে।’



