নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবার লোকসভায় আসতে পারে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। সরকার তারই তোড়জোড় করছে। সংসদীয় যৌথ কমিটির সংশোধন সহ নতুন করে বিলটি সাংসদদের সার্কুলেট করা হয়েছে। আর তার ফলেই বিলটি চলতি বাজেট অধিবেশনে আসতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। বিলটি কতটা ভালো। মুসলমান মহিলা, শিশুদের জন্য উপকারী, তা নিয়ে প্রচার করছেন সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। কিন্তু বিলটি আসছে কি না, তা বলছেন না। ২ এপ্রিল সমস্ত সাংসদকে সংসদে উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছে তৃণমূল।
আসলে সরকারের শরিকদের একাংশই এ ব্যাপারে সহমত নয়। জেডিইউ, হ্যাম এবং চিরাগ পাসোয়ানের দল বিলটি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। তারা চায় না বিহার ভোটের আগে সংসদে ওয়াকফ বিল পাশ হোক। জেডিইউ সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং কয়েকদিন আগে সংসদ চত্বরে বলেছেন, বিল এবার আসছে না। জেডিইউ সাংসদ গিরিধারী যাদব বলেছেন, দল যদি তিন লাইনের হুইপ জারি না করে, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিলের বিপক্ষে ভোট দেব।
হ্যাম দলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতনরাম মাঝির মন্তব্য, ওয়াকফ বিল ইস্যুতে কিছু ক্ষেত্রে সহমত নই। টিডিপি সুপ্রিমো তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কয়েকদিন আগে বলেছেন, আমরা ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করব। ফলে এহেন পরিস্থিতিতে পাশ করানোর জন্য বিলটি সরকার আদৌ আনবে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আজ, মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা ‘বিষয় উপদেষ্টা কমিটি’র বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি (এসপি)র মতো বিরোধী দলগুলি ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে। ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি সমর্থক করছে কেরলের ক্যাথলিক বিশপ কাউন্সিল। বিলটির পক্ষে আজমির শরিফ দরগার অন্যতম প্রধান তথা অল ইন্ডিয়া সুফি সাজ্জাদানাসিন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সঈদ নাসেরউদ্দিন চিস্তিও বলেছেন, আমরা ওয়াকফ বোর্ড সংস্কারের পক্ষে। তাছাড়া সরকার যখন আশ্বাস দিচ্ছে মসজিদ, দরগা কিছুই বন্ধ করে দেবে না, তখন অহেতুক আশঙ্কার প্রয়োজন নেই।