


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: সমাজ মাধ্যমে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা পৌঁছে গেল তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায়। বৃহস্পতিবার রাতে নবদ্বীপ পীরতলার কাছে দু’ দলের সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন দুজন। পুলিশ জানিয়েছে, জখমরা হলেন অক্ষয় বিশ্বাস ও গোপাল কর্মকার। প্রথমজনের বাড়ি নবদ্বীপ ব্যাদরাপাড়া গুমটি। আর দ্বিতীয়জনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার দোল গোবিন্দপুরে। সংঘর্ষের রাতে আহতদের নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই রাতেই তাঁদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
শুক্রবার সকালে অভিযোগ দায়ের করেন জখম অক্ষয় বিশ্বাসের দাদা বিপুল বিশ্বাস। সেই অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন রামপ্রসাদ হালদার ও গোবিন্দ বিশ্বাস। প্রথমজনের বাড়ি পীরতলা বড়গিন্নি পুকুরপাড় এবং দ্বিতীয় জনের বাড়ি প্রাচীন মায়াপুর মালো পাড়ায়।
জখম অক্ষয় বিশ্বাসের দাদা বিপুল বিশ্বাস বলেন, আমার ভাই অক্ষয়ের সঙ্গে পৌরুষ গুইরের সমাজ মাধ্যমে বাকবিতণ্ডা হয়। পৌরুষ আগে তৃণমূল করত। গত ৪ তারিখে রেজাল্ট বের হওয়ার পর নিজেকে বিজেপি বলে পরিচয় দিতে থাকে। এই নিয়ে প্রতিবাদ করায় পৌরুষ অক্ষয়কে সমাজ মাধ্যমেই অক্রমণ করে। এরপর গত ২১ মে বৃহস্পতিবার রাত্রি সাড়ে এগারোটা নাগাদ অক্ষয়, গোপাল কর্মকার সহ বেশ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে নবদ্বীপ পীরতলার কাছ থেকে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময়ে পৌরুষ গুই, রামপ্রসাদ হালদার, গোবিন্দ বিশ্বাস সহ ছয় দুষ্কৃতী এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী পূর্ব পরিকল্পনা মতো বাঁশ, লোহার রড নিয়ে আক্রমণ চালায়। অক্ষয় ও তার বন্ধুদের প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বুকে পিঠে মাথায় লোহার রড, বাঁশের টুকরো দিয়ে মারতে থাকে। দুজন গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।
নবদ্বীপ শহর উত্তর মণ্ডলের বিজেপির সহ সভাপতি তন্ময় কুণ্ডু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটা অনুষ্ঠান থেকে আমি টোটো করে ফিরছিলাম। পীরতলার কাছে আসতে দেখি একটা গন্ডগোল চলছে। সেই সময় আমি সামনে এগিয়ে দেখি একজনের মাথা দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরছে। তখন দেখি অক্ষয় এবং ওর এক বন্ধুর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। আরও কয়েকজনকে ওরা মেরেছে। ওই টোটো করেই আহতদের হাসপাতালে পাঠাই। তারপরও ওদের মুখ থেকে এবং স্থানীয় স্তরে কিছু দুষ্কৃতীর নাম জানতে পেরেছি। এদের নামে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ওই এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যারা যারা এই ঘটনায় ছিল, তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যাদের মারা হয়েছে, তারা বিজেপির সক্রিয় কর্মী। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা ৪ তারিখের ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর গেরুয়া আবির মেখে নিজেদের বিজেপি বানিয়েছে। কিছুদিন আগে তৃণমূল ছিল। এরাই ঝামেলা অশান্তি করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।