Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

চিকিৎসার গাফিলতিতে ত্রিপুরা ও অসমে দুই শিশুর মৃত্যু, তুঙ্গে বিতর্ক, দুই ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা

প্রতিবেশী দুই রাজ্য। অসম ও ত্রিপুরা। দু’টিতেই ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আর দু’রাজ্যেই একই দিনে ঘটল হৃদয়বিদারক শিশুমৃত্যুর ঘটনা। বিজেপি সরকারের নেতৃত্বাধীন দুই রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা তলানিতে, এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

চিকিৎসার গাফিলতিতে ত্রিপুরা ও অসমে দুই শিশুর মৃত্যু, তুঙ্গে বিতর্ক, দুই ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বেহাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: প্রতিবেশী দুই রাজ্য। অসম ও ত্রিপুরা। দু’টিতেই ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আর দু’রাজ্যেই একই দিনে ঘটল হৃদয়বিদারক শিশুমৃত্যুর ঘটনা। বিজেপি সরকারের নেতৃত্বাধীন দুই রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা তলানিতে, এই ঘটনা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Advertisement

প্রথম ঘটনাটি ত্রিপুরার। রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বাইখোড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৃত্যু হয় ১০ বছরের এক নাবালিকার। এই ঘটনায় চিকিৎসকের গাফিলতির পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত দশটা নাগাদ চরকবাই মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ওই নাবালিকার পায়ে বিষাক্ত কিছু কামড়ায়। তড়িঘড়ি তাকে ত্রিপুরার বাইখোড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেই সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিক। তাঁকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়। চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ডব্লুবিসিটি রক্ত পরীক্ষা করার জন্য লিখলেও হাসপাতালে সেই রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। হাসপাতালে ভর্তি না রেখে ওই নাবালিকাকে তিনটে ইনজেকশন দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি যাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে শান্তিবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফের আগরতলায় জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে নাবালিকার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতি ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশার জন্যই মেয়ের মৃত্যু হল।
অন্যদিকে, অসমের গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এনআইসিইউ (নিকু)-এর বিছানা থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক সদ্যোজাতের। জখম আরও দুই শিশু গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, নিকু ওয়ার্ডে একই বিছানায় তিনজন শিশুকে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকালে দেখা যায় একজন শিশু অক্সিজেনের নলের সঙ্গে ঝুলে আছে। অপর দুই শিশু মেঝেতে পড়ে। এই ঘটনায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে হাসপালের অধ্যক্ষ ডাঃ অচ্যুত বৈশ্য বলেন, ‘এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মৃত শিশুর বাবা জানান, ১৫ আগস্ট তাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, শিশুটির কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তাকে এনআইসিইউতে রাখতে হবে। সোমবার সকালে হাসপাতালে এসে জানতে পারি, নিকু ওয়ার্ডে কয়েকজন শিশু বিছানা থেকে পড়ে গিয়েছে। আমার মেয়ে বিছানার একদিকে অক্সিজেনের নলের সঙ্গে ঝুলে ছিল। তার শরীরে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শরীর পুরো কালো হয়ে গিয়েছিল। সরকারি হাসপাতালের এই অব্যবস্থা এবং গাফিলতিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন সন্তানহারা পরিবার। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয়রাও। -ফাইল চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ