


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এবার সামশেরগঞ্জ থেকে উদ্ধার হল ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোট। আগাম খবরের ভিত্তিতে পুলিস সোমবার সকালে ধুলিয়ান গঙ্গা ফেরিঘাটে অভিযান চালায়। সেখানে দুই কারবারিকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই তাদের হেফাজত থেকে জাল নোটগুলি উদ্ধার হয়। তবে সেগুলি যে জাল তা পুলিস প্রথমে বুঝতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে ধৃতরাই জানায় যে, নোটগুলি আসল নয়। তখনই গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। ধৃত দুজনের নাম, আল আমিন শেখ ও মিস্টার শেখ। দুজনেরই বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায়।
সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা জাল নোটগুলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল তা জানতে এবং এই কারবারের পিছনে আর কারা আছে, কোথা থেকে তারা নোটগুলি পেল, এসব জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকরা মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে আসছিল।
এদিন সকালে নদী পেরিয়ে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান গঙ্গা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় আসে। সেখানেই তাদের পাকড়াও করে পুলিস। ধৃতদের কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই এক যুবকের ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার মোট ৩২০০টি নোট মেলে। পুলিসকর্মীরা প্রথমে বুঝতে পারেননি ওই নোটগুলি নকল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে জানায়, সব নোট নকল। মালদহ থেকে ওই নোট নিয়ে এসে তারা টোটো ধরে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এদিনই ধৃত যুবকদের জঙ্গিপুর আদালতে তোলা হয়। তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিস।
সামশেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক বলেন, বাংলাদেশে ও ভারতের এজেন্টরা এই কারবার চালাচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই কারবারে যুক্ত বাকিদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পুলিস জানতে পেরেছে, বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এই জাল নোটগুলি আসছে। মালদহের বৈষ্ণবনগর ঘাট হয়ে মুর্শিদাবাদ ঢুকছে।
ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ ও মালদহের বিভিন্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ফের কোনও গন্ডগোল যাতে না হয় তা নিয়েই ব্যস্ত পুলিস। অশান্তি নিয়ন্ত্রণ করতে ময়দানে নামে বিএসএফও।
ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে খুব একটা নজর দেওয়ার সময় পায়নি পুলিস ও বিএসএফ। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাল নোটের কারবারিরা। বড় বড় বাজারে মোটা টাকার লেনদেনের সময়ে আসল নোটের মাঝে সুকৌশলে জাল টাকা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা মূলত ৫০০ টাকার নোটই বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যে কারণে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই ৫০০ টাকার নোটগুলি অবিকল আসল নোটের মতোই দেখতে। হাতে নিয়েও বোঝা যায় না, আসল না নকল। এদিন উদ্ধার হওয়া জালনোটগুলির গুণগত মানও বেশ ভালো বলে পুলিস জানিয়েছে। নিজস্ব চিত্র