


নয়াদিল্লি: ট্রাম্প-ট্যারিফ নিয়ে বারবার বিব্রত হতে হয়েছে ভারতকে। সেই ট্রাম্পই শুক্রবার শুল্ক ইস্যুতে ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। পালটা পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ বিকল্প ট্যারিফ ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সাবধানী অবস্থান নয়াদিল্লির। রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। বাণিজ্য মন্ত্রক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।’
দ্বিতীয়বার মার্কিন মসনদে বসেই শুল্ক দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনিই শুক্রবার আমেরিকার শীর্ষ আদালতে জোর ধাক্কা খেয়েছেন। তাঁর আরোপিত সমস্ত শুল্ককে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই রায় উড়িয়ে নতুন হারে বিশ্বব্যাপী শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর ঘোষণা, সাময়িক ট্যারিফের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করবেন। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ১৫০ দিনের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন করাতে হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। কারণ, এই ইস্যুতে অনিশ্চয়তার জেরে ইতিমধ্যে সীমান্তে ট্যারিফ সংগ্রহ বন্ধ করতে চলেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে শুল্ক সংগ্রহ বন্ধ রাখা হবে বলে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিপিবি) জানিয়েছে। ভারত অবশ্য এখনও আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির (বিটিএ) দিকে তাকিয়ে রয়েছে, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বলেছেন, ‘ভারতের বাণিজ্যক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়তে চলেছে, তা বাণিজ্য মন্ত্রক খতিয়ে দেখছে।’ দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার এই নিয়ে বৈঠকের কথাও ছিল। সেজন্য ওয়াশিংটনে উড়ে গিয়েছে ভারতের প্রতিনিধি দল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরই ট্রাম্প প্রশাসন বিটিএ নিয়ে আলোচনা স্থগিত রেখেছে। তা নিয়ে সীতারামন বলেন, ‘প্রতিনিধি দল চূড়ান্তপর্বের আলোচনার জন্য মার্কিন কর্তৃপেক্ষর ডাকের অপেক্ষায় রয়েছে।’