


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জমিদারবাড়ির কালীপুজো বলে কথা! ব্যাপক আনন্দ আয়োজন। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা এসে জড়ো হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির দলুইবাজার গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে। অনেকে আসতে না পেরে ভিডিও কলে মায়ের পুজো দেখছেন। পারিবারিক মন্দিরে স্বর্ণালংকারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে দেবীকে। নিষ্ঠাভরে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর খেতে বসেছেন বাড়ির লোকজন। মন্দিরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। খাওয়াদাওয়ার পর গর্ভগৃহে ঢুকেই মাথায় হাত পরিবারের এক গৃহিণীর। ‘এ কী অলক্ষুণে কাণ্ড! মায়ের সোনার মুকুট, নোলক, টিকলি ও হার গেল কোথায়?’ চিৎকার করে বেরিয়ে এলেন তিনি। আচমকাই উৎসবে মুখর বাড়িতে নেমে এল শ্মশানের নিস্তব্ধতা। মন্দিরে বাইরের কেউ ঢোকেননি। সকলেই পরিবারের সদস্য কিংবা তাঁদের বিশেষ বন্ধু। তাহলে চুরিটা করল কে? রহস্য অবশ্য বেশিক্ষণ রইল না। কালীপুজোর রাত শেষ হওয়ার আগেই আসল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সেই গুণধর অন্য কেউ নয়, স্বয়ং বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারেরই এক শরিকের হবু-জামাই! অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বর্ধমানের খোসবাগানের বাসিন্দা দেবজ্যোতি চৌধুরী নামে বছর বত্রিশের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এক শরিকের বিশেষ বন্ধু।’
সোমবার রাতে মায়ের গয়না লোপাটের খবর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জানানো হয়েছিল মেমারি থানায়। মেমারির ডিএসপি, সিআই সহ পুলিশ আধিকারিকরা শীঘ্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। পরিবারের প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তার আগেই অবশ্য বর্ধমান শহর থেকে আসা ওই বংশের এক শরিক পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে ওই শরিক পরিবারের সঙ্গে কালীপুজো দেখতে আসা এক বিশেষ বন্ধুর কথা। ওই যুবক পরিবারের হবু-জামাই বলেও কানাঘুষোয় জানতে পারেন তদন্তকারীরা। যদিও বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এক সদস্য দেবনিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সে আমাদের বংশের এক বোনের বন্ধু। হবু বর কি না, তা জানা নেই। ছেলেটিকে প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল। বাড়িতে এসে সবার সঙ্গে আগ বাড়িয়ে ভাব জমাচ্ছিল। তবে মায়ের গয়না চুরি করতে পারে, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।’
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এটা জানা যায় যে, ওই বিশেষ বন্ধু বা হবু জামাই সবার শেষে মন্দিরে ঢুকেছিল। ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। সে জানায়, মেমারি পেরিয়ে গিয়েছে। পরদিন দেখা করবে। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। মাঝরাস্তায় গাড়ি আটকে মেমারি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ওই হবু-জামাইকে। যদিও গাড়িতে থাকা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যরা তাঁকে ‘ক্লিনচিট’ দিচ্ছিলেন। মেমারি থানায় লাগাতার জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অভিযুক্ত। ভোরের দিকে অপরাধ কবুল করে। তদন্তকারীদের জানিয়ে দেয়, সবাই যখন খাওয়া-দাওয়া করতে ব্যস্ত ছিল, সেই সময় মন্দিরে ঢুকে গয়না পকেটে ভরে নেয়। তারপর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কিছুক্ষণ খোশগল্প করে সেখান থেকে চম্পট দেয়। ওই গাড়ি থেকেই ১০ ভরি গয়না উদ্ধার করা হয়েছে।