


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা সভায় গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টনের বিষয়টি উঠলই না। ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা জলবণ্টন চুক্তি। তার আগে সোমবার থেকে পাঁচদিনের রাজ্য সফরে এসে ফারাক্কা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা। তাতে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশেরই নদী বিশেষজ্ঞরা। তারপর শুক্রবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। স্বাভাবিকভাবেই বহু প্রতীক্ষিত গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন নিয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চাওয়া হবে বলেই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু, সূত্রের খবর, এনিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। আলোচনায় জায়গা হয়নি তিস্তা চুক্তিরও।
তবে বাংলাদেশ অংশে বেশকিছু নদীর দু’পারে চিনি কল তৈরি হওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে বলে বৈঠকে সতর্ক করা হয়। কারণ এরাজ্যেও তার প্রভাব পড়ছে। গুরুতর বিষয়টি বাংলাদশের প্রতিনিধিদের গোচরে আনা হয়। এই বিষয়ে তাদের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপেরও আশ্বাস মিলেছে।
এদিনের বৈঠকে ওঠে মহানন্দা নদীর উপর ব্যারেজের বিষয়টি। বাংলাদেশের তরফে এই ব্যারেজের কারণে পড়শি দেশের নদীতে জল কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এই নদীর বেশিরভাগটাই হল ভারতের মধ্যে। ফলে এর কারণে বন্যার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এখানকার মানুষকেই। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এই বৈঠকে ব্যারেজগুলি থেকে জল ছাড়ার খবর আগেভাগে দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, তবে রাজ্যের যাবতীয় বক্তব্য নবান্নের শীর্ষ স্তরের মাধ্যমে কেন্দ্রকে পাঠানো হবে। পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। তার ভিত্তিতে ওই দেশের সঙ্গে কেন্দ্র সমস্ত আলোচনা করবে।