


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: পেঁয়াজ-রসুন-আদা-লঙ্কা! এগুলো ছাড়া বাঙালির চলে না। এদিকে দাম মাঝে মধ্যেই বেড়ে যায়। তাই রাজ্য সরকারের কৃষি বিপণন দপ্তর এইসব সব্জির দাম আয়ত্তে রাখার জন্য উদ্যোগ নিল। পেঁয়াজ-রসুনের জন্য রাজ্যে মোট ৭৫০টি গোলা তৈরি হবে। আর সুপারি-আদা-লঙ্কার জন্য রাজ্যের মোট ১০টি জায়গায় তৈরি হচ্ছে হাব।
পুজোর আগেই হাব তৈরির কাজ শেষ করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তর। প্রতিটি গোলায় থাকবে ২৫ টন পেঁয়াজ-রসুন। অসময়ে বাজারে এগুলির জোগান দেবে তারা। গোলা তৈরির জন্য উপভোক্তাদের ভর্তুকিও দেবে সরকার। এর জন্য সরকারি পোর্টালে আবেদনের শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। এরপর হবে লটারি। এর জন্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেবে সরকার।
এক কর্তায় কথায়, গোলার চারদিকে ছিদ্রযুক্ত ইটের দেওয়াল হবে। তার উপরে খড় বা অ্যাসবেস্টেসের ছাউনি থাকবে এবং মেঝে হবে কংক্রিটের। ৭৫০টি গোলার মধ্যে পূর্ব বর্ধমানে ১৭৬টি, হুগলিতে ১৭৫টি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ২৫টি গোলা তৈরি হবে। ইতিমধ্যে ৩০টির মতো আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে গোলা তৈরিতে খরচ হবে ৯ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের মধ্যে গোলা তৈরির কাজ শেষ করতে হবে।
দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পণ্যনির্দিষ্ট হাব’ নামে রাজ্য সরকারের অর্থব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট কৃষক বাজার। খরচ হচ্ছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। একই রকমভাবে কামাখ্যাগুড়ির মুখ্য বাজারে তৈরি হচ্ছে কলা ও পেঁপের হাব। এর খরচ ২ কোটি ৪৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি কৃষি বিপণন দপ্তর জানিয়েছে, দার্জিলিংয়ের শালবাড়ি কৃষক বাজারে আদা, পুরশুড়া কৃষক বাজারে তিল, মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর-১ কৃষক বাজারে সরষে, হরিহরপাড়া কৃষক বাজারে লঙ্কা, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা কৃষক বাজারে গাজর, তমলুকে পানপাতা, করণদিঘি কৃষক বাজারে ভুট্টা, বোলপুর মুখ্যবাজারে লজিস্টিক হাব তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘১০টি জায়গায় যে হাব তৈরির হচ্ছে তার মাধ্যমে কৃষকরা লাভজনক দাম পাবেন এবং অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ পাবেন কম দামে উপযুক্ত গুণমানসম্পন্ন কৃষিজ পণ্য।’