Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম হস্তক্ষেপে রক্ষা ৪০ লক্ষের! গেরুয়া নির্দেশ! মাইক্রো অবজার্ভারদের কলকাঠিতে বাদ যেত নাম, ভোটারদের ভরসা বিচারকরাই

বিজেপির টার্গেট পূরণেই কি নেমেছিলেন মাইক্রো অবজার্ভাররা? অর্থাৎ, যেভাবেই হোক এক কোটির উপর ভোটারের নাম বাদ দেওয়া?

সুপ্রিম হস্তক্ষেপে রক্ষা ৪০ লক্ষের! গেরুয়া নির্দেশ! মাইক্রো অবজার্ভারদের কলকাঠিতে বাদ যেত নাম, ভোটারদের ভরসা বিচারকরাই
  • ৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির টার্গেট পূরণেই কি নেমেছিলেন মাইক্রো অবজার্ভাররা? অর্থাৎ, যেভাবেই হোক এক কোটির উপর ভোটারের নাম বাদ দেওয়া? এই অভিযোগ বারবার তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সুরে সরব হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও। এবং সব তিরই একই অভিমুখে আঘাত করছে—কমিশন। খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষ সংখ্যাটি যথেষ্ট নয় বলেই দেড় কোটি বঙ্গবাসীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল নোটিস। শেষের দিকে বেশিটাই ‘বাছাই করে’। এই নালিশ প্রত্যেক জেলা থেকে এসেছে। আর যথাযথ নথি জমা সত্ত্বেও স্রেফ গায়ের জোরে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে একের পর এক নাম। লক্ষ লক্ষ ভোটারকে করে দেওয়া হয়েছে ‘বিচারাধীন’। কোনো ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কাগজে-কলমে তার প্রমাণও মিলেছে। এভাবে প্রায় ৬ লক্ষ ভোটারের নাম প্রথম  চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। যদি সুপ্রিম কোর্ট সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ না করত, একই পরিণতি হত অন্তত ৪০ লক্ষ ভোটারের। অর্থাৎ, ‘ডিলিটেড’ ভোটারের সংখ্যা পৌঁছে যেত এক কোটিতে। তৃণমূলের দাবি, সবটাই গেরুয়া নির্দেশে।

Advertisement

কোন অঙ্কে রাজ্যের শাসক দলের নেতানেত্রী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই দাবি তুলছেন? তৃণমূলের দাবি রাজনৈতিক হলেও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বহু ডব্লুবিসিএস অফিসার, অর্থাৎ ইআরওরা নিজের চোখে এই ‘কর্মকাণ্ড’ দেখেছেন এবং এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেছেন। তারই প্রতিফলন এদিন ডব্লুবিসিএস অফিসারদের সংগঠনের ক্ষোভের বিস্ফোরণে। তারা সাফ জানিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা নাম বাদ এবং ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় লক্ষ লক্ষ নাম ঠেলে দিয়েছেন। আর তার দায় চাপিয়ে চলেছেন রাজ্যের আধিকারিকদের ঘাড়ে। ছ’লক্ষের কাছাকাছি যে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সিংহভাগই ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা সন্দেহজনক তালিকায় থাকা ভোটার। সিইও দপ্তরও অবশ্য পালটা হুমকি দিয়েছে, ‘লক্ষ্মণরেখা পার করবেন না।’ তবে কার সৌজন্যে এই ভোটাররা সন্দেহভাজন? নির্বাচন কমিশনের অপরীক্ষিত এআই সফটওয়্যার। অন্তত ৮০ শতাংশ সন্দেহজনক ভোটার বাদ পড়েছেন এই পর্বে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে কমিশন কিন্তু একাধিকবার জানিয়েছিল, কোনো ভোটারের নাম বাদ পড়লে, তাঁকে কারণ জানিয়ে দেওয়া হবে। অথচ তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদের কোনো কারণ জানানো হয়নি। একাধিক বিএলও জানাচ্ছেন, কেন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেব্যাপারে তাঁরাও অন্ধকারে। একাধিক ক্ষেত্রে বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি করছেন বিএলওরা। শেষ লগ্নে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ না করলে ৬০ লক্ষের মধ্যে অন্তত ৪০ লক্ষ নাম বাদ চলে যেত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক মহল থেকেই। যেহেতু গোটা বিষয়টা এখন হাইকোর্ট নির্দিষ্ট জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারকদের তত্ত্বাবধানে চলে গিয়েছে, তাই আপাতত চিন্তার ভার কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে ভোটারদের। তাঁরা আশা করছেন, নথির পাহাড় যতই উঁচু হোক না কেন, অন্যায় বিচার তাঁদের সঙ্গে হবে না। যথাযথ যাচাই করেই আবেদনের নিষ্পত্তি করবেন তাঁরা।
তবে বিচারকরা যে গতিতে নথির নিষ্পত্তি করছেন, তাতে দ্রুত এই কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। ৫৩২ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে এই কাজে যুক্ত করার কথা থাকলেও, ৩০০ জন জেলা জজের কাঁধেই এসআইআরের দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে। তাই বিচারকরা এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ১০ হাজার নথি যাচাই করতে পেরেছেন। তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ সন্দেহজনক ভোটারকে ‘বৈধ’ বলে ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এখনও ঝুলে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫৫ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। ভিন রাজ্য থেকে বিচারক আসার কথা থাকলেও কোনো সবুজ সংকেত এ পর্যন্ত মেলেনি। গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার নথি নিষ্পত্তি করছেন বিচারকরা। ফলে যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে সব নথি নিষ্পত্তি করতে তিন মাসেরও বেশি সময় লেগে যাবে। বিজেপি কি সেটাই চায়? সেই কারণেই ৬০ লক্ষ নথি যাচাইয়ের চাপ? যাতে রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট করানো যায়? তৃণমূল সাফ বলছে, চক্রান্ত যে হয়েছে, তা স্পষ্ট। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ