Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কসবা থানার হিস্ট্রি শিটারের তালিকায় নাম নেই সোনা পাপ্পুর, সাসপেন্ড ওসি

দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম উধাও কসবা থানার হিস্ট্রি শিটারের তালিকা থেকে। এমনকি, থানার রাফ রেজিস্টারেও তার নাম নেই।

কসবা থানার হিস্ট্রি শিটারের তালিকায় নাম নেই সোনা পাপ্পুর, সাসপেন্ড ওসি
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম উধাও কসবা থানার হিস্ট্রি শিটারের তালিকা থেকে। এমনকি, থানার রাফ রেজিস্টারেও তার নাম নেই। কীভাবে একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতীর নাম বাদ গেল, এই প্রশ্নের সদুত্তর না মেলায় কসবা থানার ওসিকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। অপরাধীকে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে সোমবার সকালে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে  কলকাতার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে কত মামলা ঝুলে রয়েছে, কতগুলি মামলায় জামিন পেয়েছে, এই সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছেন শীর্ষকর্তারা। পাশাপাশি সোনা পাপ্পুর সঙ্গে কোন কোন পুলিশ অফিসারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তা নিয়েও খোঁজখবর চলছে। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক পুলিশ অবজার্ভার কসবা থানায় ঢুকে ‘দাগী’দের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সেই সময় থানার হিস্ট্রি শিটে সোনা পাপ্পুর নাম না থাকায় বিতর্ক সামনে আসে।  

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, গুলি চালানো, খুনের চেষ্টা সহ একাধিক মামলা রয়েছে কসবা, গড়িয়াহাট, তিলজলা, পূর্ব যাদবপুর, যাদবপুর সহ একাধিক থানায়। পাপ্পুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অজ্ঞাতকারণে তাকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। উলটে তাকে আদালত থেকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সোনা পাপ্পুকে পলাতক দেখানো হলেও কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি। শুধু তাই নয়, তাকে ‘প্রোক্লেম অফেন্ডার’ বলেও কখনও ঘোষণা করা হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে গড়িয়াহাট এলাকার কাঁকুলিয়া রোডে তার শাগরেদরা ধরা পড়লেও অনায়াসে জামিন পেয়ে যায়। নির্বাচন আসতেই হিস্ট্রি শিটারদের খোঁজ শুরু হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট নির্দেশে জানিয়েছে, অপরাধের ইতিহাস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বাইরে রাখা যাবে না।
লালবাজার সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর গতিবিধি নিয়ে প্রথমে কেউ মাথা ঘামায়নি। গত সপ্তাহে তার ফার্ন রোড ও সুইনহো লেনের বাড়িতে তল্লাশি ও সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর চাপে পড়েন পুলিশের শীর্ষকর্তারা।  তড়িঘড়ি তার সম্পর্কে খোঁজ শুরু হয়। কসবা থানার পাঠানো হিস্ট্রি শিটে তার নাম না দেখে অবাক হন শীর্ষকর্তারা। এমনকি, থানার রাফ রেজিস্টারেও তার নাম ছিল না। এ নিয়ে কসবা থানার ওসির কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। কিন্তু তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি লালবাজার। কর্তারা বুঝতে পারেন, সচেতনভাবেই সোনা পাপ্পুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাতে ভোটের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে না হয়। এরপরই লালবাজার সাসপেন্ড করে কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে। সেই সঙ্গে থানার অ্যান্টি রাউডি সেকশনের অফিসারের ভূমিকাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে পুলিশ মহলের একাংশের দহরম মহরম রয়েছে। শোনা যায়, পুলিশের কেউ কেউ তার ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সেই প্রভাবকে খাটিয়ে থানার হিস্ট্রি শিটারের তালিকা থেকে সোনা পাপ্পু নিজের নাম সরিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ