


সৌম্য দে সরকার, মালদহ: পরিকল্পনা ছিল ঈদের পরেই মুম্বইয়ে চলে যাবেন নির্মাণ শ্রমিকের কাজে। কিন্তু আপাতত মাথায় উঠেছে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার ভাবনা। শেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রয়েছে মোথাবাড়ি বিধানসভার বরকতাবাদের বাসিন্দা সাইদুর শেখের নাম। বিচারাধীন ভোটারের তালিকায় রয়েছেন পরিবারের একাধিক সদস্য। তাই ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার বদলে একরাশ উত্কণ্ঠা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিক।
হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার মহেন্দ্রপুর অঞ্চলের বাংরুয়া গ্রামের বাসিন্দা বছর চল্লিশের মজিফুল ইসলামেরও অবস্থা একই রকম। তাঁর ও পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এখনও বিচারাধীন রয়েছেন। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম উঠবে কি না জানা নেই। তাই দিল্লিতে না গিয়ে আপাতত বাড়ির কাছাকাছি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। কমেছে উপার্জন। কয়েক গুণ বেড়েছে দুশ্চিন্তা।
মালদহের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ছড়িয়ে রয়েছেন এমন অনেক সাইদুর, মজিফুলরা। ভিনরাজ্যে কেউ নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। আবার কেউ কাজ করেন প্লাস্টিক কারখানায়। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় শুনানিতে ডাক পেয়ে হাজিরাও দিয়েছেন তাঁদের অনেকেই। জমা করেছিলেন প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নাম বিচারাধীন দেখে আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁদের মাথায়। ঈদ কাটিয়েছেন উদ্বেগ নিয়ে।
সাইদুর বলেন, ভিনরাজ্যে উপার্জন অনেকটাই বেশি হয়। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন রয়েছে। এমনিতেই ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের নানা হেনস্তার শিকার হতে হয়। এখন বাইরে গেলে বিপদ বাড়তে পারে। ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন রয়েছে জানলে শারীরিক নিগ্রহের আতঙ্কও রয়েছে। তাই আপাতত বাড়িতেই রয়েছি। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম থাকলে দেরি না করে মুম্বই চলে যাব। সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছে। আগে তো পেট। পারলে ভোট দিতে আসব।
মজিফুল বলেন, দিল্লিতে প্লাস্টিকের কারখানায় কাজ করে ভালোই আয় হত। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকায় চরম উত্কণ্ঠায় রয়েছি। স্থানীয় ভাবে কাজ করছি। কিন্তু রোজগার কমে গিয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম না থাকলে সমস্যা আরও বাড়বে। এমন নির্মাণ শ্রমিকদের হয়ে সরব হয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল। জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, বিজেপি এই হতদরিদ্র মানুষগুলোর যন্ত্রণা বুঝবে না। ওনাদের উপার্জন গিয়েছে। দুশ্চিন্তা বেড়েছে। ভোটবাক্সে জবাব পাবে বিজেপি।
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনিমেষ সিনহা বলেন, মালদহের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ ভিন রাজ্যে কাজ করেন। তাঁদের অনেকেরই নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন। তাঁরা ভয়ে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
কংগ্রেসের জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মান্তু ঘোষ বলেন, আমাদের দল বারবার পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়ে লড়াই করেছে। আজও করছে। তাঁদের যন্ত্রণার পিছনে রয়েছে বিজেপির ষড়যন্ত্র। মানুষ ঠিক সময়ে ভোটে প্রতিবাদ করবে।
বিজেপির মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ভোটার তালিকায় নাম ওঠার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন জেলার এত মানুষকে ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হচ্ছে কেন? এনাদের দুর্দশার জন্য দায়ী বামেদের ৩৪ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের অপশাসন।