


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ছুটোছুটির দিন শেষ হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই একই ছাদের তলায় মিলবে সব্জি, ফল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস। এছাড়াও জামাকাপড়, প্রসাধনী সামগ্রীও। সাঁইথিয়া পুরসভা এবার বহুতল মার্কেট কমপ্লেক্স গড়তে চলছে। জমি চিহ্নিতকরণ শেষ। এখন ডিপিআর (ডিটেইলপ্রজেক্টরিপোর্ট) তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড চত্বরেই নয়া মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠবে। ডিপিআর তৈরির কাজ শেষ হলেই কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের পথে হাঁটবে। পুরসভার লক্ষ্য, চলতি বছরেরই নয়া মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির কাজ শুরু করা। নিজস্ব খরচে তৈরি এই মার্কেট কমপ্লেক্স থেকে পুরসভার তহবিল ভরারও সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব খরচে ধাপে ধাপে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে। এই মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠলে পুরসভার খরচ অনেকটাই কমবে। সেইসঙ্গে আয় বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, নতুন মার্কেট কমপ্লেক্সের জন্য প্রায় একবিঘা জমি নির্দিষ্ট হয়েছে। মোহনবাগান মোড় সংলগ্ন ওই জমিতে অত্যাধুনিক মানের মার্কেট কমপ্লেক্সের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকবে ছোট ছোট স্টল। উপরে একাধিক দোকানঘর তৈরি হবে। প্রথম ধাপে একতলা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, পুরসভার আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট কমপ্লেক্সের নির্মাণও আকাশ ছুঁতে শুরু করবে। মোটামুটি ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মার্কেট কমপ্লেক্সটি তিনতলা হবে। ক্রেতাদের আনাগোনার বাড়লে পার্কিং প্লেস করারও পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণ কাজের শুরুতেই আন্ডার গ্রাউন্ড পার্কিং জোন তৈরি করা হবে। বহুতল মার্কেট কমপ্লেক্সটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে সত্তরের বেশি স্টল হবে। সেখানে মাছ, মাংস ও সব্জির বাজার বসবে। মূলত হাটতলার ব্যবসায়ীরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবেন। উপরের দোকান ঘরগুলিতে জামাকাপড় থেকে শুরু করে স্বর্ণালঙ্কার, প্রসাধনী সামগ্রীর পসরা বসবে। পুরসভার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, লটারির মাধ্যমে স্টলও দোকানঘর লিজ দেওয়া হবে।
বর্তমান সময়ে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে হাটতলা এলাকায় সব্জি ও মাছ, মাংসের বাজার রয়েছে। পুরসভার উদ্যোগেই সেখানে স্থায়ী বাজার গড়ে উঠেছে। জমিটি অবশ্য পুরসভার নয়। মাসিক ২৭ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাজার বসছে। যদিও বাজার থেকে পুরসভার আয় বলতে কিছুই নেই। শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত পরিষেবা ফি আদায় করা হয়। অর্থাৎ একপ্রকার গ্যাঁটের কড়ি খরচ করেই ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরসভা। তবে এবার ওই ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ঠিকানা দিতে চলেছে সাঁইথিয়া পুরসভা। এখন শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। -নিজস্ব চিত্র