কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: একাধিক রাজ্যে রেশন কার্ড করিয়ে রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে। তাদের একটিমাত্র কার্ড চালু রাখার জন্য রাজ্যগুলিকে উদ্যোগ নিতে বলেছিল কেন্দ্র। এজন্য ই-কেওওয়াইসি প্রক্রিয়ায় তাদের যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে, এই কাজ সবচেয়ে ভালো হয়েছে বাংলায়। বাংলার এমন ১.৩৭ লক্ষ গ্রাহকের তালিকা কেন্দ্র পাঠিয়েছিল। তাদের ই-কেওয়াইসি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২২টি রাজ্য ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড বন্ধ করতে কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। তাদের মধ্যে বিজেপি/এনডিএ রাজ্য আছে একাধিক। যাচাইয়ের কাজটি করেছে পশ্চিমবঙ্গসহ মোট ১৪টি রাজ্য। তবে এই পংক্তির অন্য ১৩টি রাজ্য বাংলার থেকে অনেক পিছিয়েই আছে।
মহারাষ্ট্রে মোট ১.২৪ লক্ষ গ্রাহকের তালিকা পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু তারা মাত্র ৬৪৪ জনের বা ১ শতাংশের ই-কেওয়াইসি করেছে। অসমও আটকে আছে ১ শতাংশে। অসমের ২০,৭৯৮ জনের ডুপ্লিকেট কার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ই-কেওয়াইসি করা হয়েছে মাত্র ২৯৪ জনের। ত্রিপুরার সাকসেস রেট ২ শতাংশ। যোগীরাজ্যের ছবিটা একটু ভালো। সেখানে মোট ১.৯৮ লক্ষ কার্ড যাচাই করতে বলা হয়েছিল। ইউপি সরকার ই-কেওয়াইসি করেছে ৭৭ হাজারের কিছু বেশি বা ২৮ শতাংশের মতো। ওড়িশায় হয়েছে ২৯ শতাংশ। রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং গুজরাতের মতো ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারও এই কাজে পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। যে ২২টি রাজ্য এই কাজ করতে পারেনি তার মধ্যে রয়েছে বিহার, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি/এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলি।
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় এই গ্রাহকরা অন্তর্ভুক্ত আছেন। এখন ‘এক দেশ এক রেশন ব্যবস্থা’ চালু করা হয়েছে। একজন গ্রাহক দেশের যেকোনও জায়গায় গিয়ে তাঁর প্রাপ্য খাদ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এজন্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে সব রেশন গ্রাহকের তথ্য জমা পড়ে। তা খতিয়ে দেখে একাধিক রাজ্যে কার্ড আছে এমন গ্রাহকদের চিহ্নিত করে কেন্দ্র। এই ধরনের গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি করে রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছিল, কারা রাজ্যে কার্ড রাখতে চাইছেন। বলা হয়েছে বাকি কার্ডগুলি ব্লক বা বাতিল করে দিতে। যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল তার মধ্যে বাংলায় ব্লক করা হয়েছে ৪.২৩ শতাংশ কার্ড।