


নয়াদিল্লি, ১৩ এপ্রিল: ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানাকে বহু লড়াইয়ের পর হাতে পেয়েছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু ভারতে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে নানারকমের চেষ্টা করেছিলেন রানা। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে যখন ভারতে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর মামলায় হার হয় রানার, তখন থেকেই নানা উপায়ে সেদেশেই থেকে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের হারের পরই চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি মার্কিন বিদেশ দপ্তরে একটি চিঠি লিখেছিলেন রানার আইনজীবী জন ডি ক্লাইন। উদ্দেশ্যেই ছিল ভারতে কোনওভাবে প্রত্যর্পণ ঠেকানো। সেই কারণে রানার ৩০ ধরণের শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হয় বিদেশ দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে। তাতে আরও উল্লেখ করা হয়, রানার বয়স, স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সমস্যার কথাগুলি। সেই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে, তার আইনজীবী লিখেছিলেন প্রত্যর্পণ করা হলে ভারতে রানার উপর অত্যাচার করা হতে পারে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন রানার আইনজীবী জন ডি ক্লাইন। যদিও তার চিঠিকে পাত্তা দেননি মার্কো রুবিও। পাল্টা উত্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়, রানাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্যাতনবিরোধী নীতির অধীনে নেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই আদালত ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে পর পর দু’বার প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে রানার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে এনআইএ হেফাজতে থাকাকালীন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য দিচ্ছেন তাহাউর রানা।
সূত্রের খবর, মুম্বই হামলায় ‘এমপ্লয়ি বি’ নামের এক ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ‘এমপ্লয়ি বি’ আজমল কাসবদের নিরাপদ স্থানে থাকা, খাওয়া, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজই করেছিলেন। এমনটাই দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সেই ব্যক্তিরই খোঁজ শুরু হয়েছে। এরই সঙ্গে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে যে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল, সেখানে রানার ভূমিকা জানার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই হামলার বিষয়ে ফোনে তিনি কী কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন? তা জানতেই রানার কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করাতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।