


আজ মহাষষ্ঠী পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে দেবী দুর্গার আরাধনা। পুজোর এই ক’টা দিন কেমনভাবে কাটবে, সেই পরিকল্পনার কথা জানাল কয়েকজন খুদে বন্ধু।
এসো মা এসো
পুজো মানেই আনন্দ, পুজো মানেই মায়ের আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ আর নারীশক্তির আরাধনা। মায়ের আশীর্বাদে জগৎ সংসার হয়ে উঠুক চেতনাময়। তাই আমিও এই বছর মায়ের কাছে প্রার্থনা করি সবার যেন মঙ্গল হয়। এবছর উচ্চ মাধ্যমিকের সেমিস্টারের পরীক্ষা পুজোর কেনাকাটা মাটি করে দিয়েছে। প্রতিবছর পুজোতে আমার নতুন কিছু করার প্ল্যান থাকে। এবছর কিছু গরিব শিশুকে বস্ত্রদান করব ভেবেছি। বাড়িতে যেহেতু দুর্গাপুজো হবে, তাই উৎসবের মেজাজে পরিপূর্ণ থাকবে আমাদের বাড়ি। মা যেহেতু চারদিনের জন্য আমাদের কাছে আসেন, তাই দেবীর কাছ থেকে নেওয়ার বদলে তাঁকে দেওয়ার চেষ্টা করব। মায়ের চরণে দিতে চাই নিজের মনের দ্বেষ, রাগ, নীচ মানসিকতাগুলোকে। সেগুলিই হল আসল অঞ্জলি। অষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো দেখতে যাব। নবমীতে পাড়ার ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। দশমীতে মায়ের কাছে এই প্রার্থনা থাকবে যে, তিনি যেন পৃথিবী থেকে সব অশুভ শক্তি বিনাশ করেন।
নীলাঙ্কনা ঘোষ দ্বাদশ শ্রেণি, বাগবাজার মাল্টিপারপার্স গার্লস স্কুল
নাচের অনুষ্ঠান করব
সেদিন সপরিবারে মামার বাড়ি গিয়েছিলাম। আমার মামার বাড়ি গ্রামে। রাস্তার দু’ধারে কাশবন, আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। মেঘের আড়ালে সুয্যিমামা কখনও লুকিয়ে পড়ছে আবার মেঘ সরে গেলে মিষ্টি রোদ হাসছে। বসন্তকাল আর শরৎকাল এই দুই ঋতুতে আমার মামার বাড়ি যেতে ভারী মজা লাগে। কারণ বসন্তকালে পুরো মাঠজুড়ে হলুদ সর্ষেফুলে ভরে যায়। আর শরৎকালে সাদা কাশফুল প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে। আমাদের বাড়ির পাশেই একটা ক্লাব আছে, সেখানে দুর্গাপুজো হয়। আগে প্রতিমা ক্লাবেই তৈরি হতো। মনে পড়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঠাকুর তৈরি দেখতে ছুটতাম। এখন কুমোরপাড়া থেকে প্রতিমা আনা হয়। ছোট থেকেই আমি আর আমার দিদি পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকি। গত বছর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানে দিদি দুর্গা সেজে নাচ করেছিল। মনে আছে আমি যে বার প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেছিলাম, অসুরকে দেখে ভীষণ কেঁদেছিলাম। এবছরও নাচের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। অষ্টমীর দিন শাড়ি পরে অঞ্জলি দেব। নবমীর দিনও কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া হবে। আর রয়েছে জমিয়ে ঠাকুর দেখা।
পিউ পাত্র অষ্টম শ্রেণি, চন্দ্রহাটী বিশ্বনাথ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়
কলকাতার পুজো দেখতে চাই
দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। পুজোতে আমরা সকলেই খুব মজা করব। পুজোয় ঠিক করেছি আমরা নতুন জামাকাপড় পরব। আর অনেক বাজি, ফুলঝুরি কিনব। বাবা আমাকে দুটো পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছে। একটা হলুদ ও একটা লাল। মা দিয়েছে দুটো জিনস। আমাদের পাড়াতে দুর্গাপুজো হয়। ওখানে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে খুব মজা করব। পুজো মা-বাবার কাছে আবদার করেছি কলকাতায় পুজো দেখতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শুনেছি, কলকাতায় বড় বড় পুজো হয়। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে কলকাতায় গিয়ে মেট্রো চড়ব।
মহম্মদ আবদুল্লা পঞ্চম শ্রেণি, সাধনপুর উলুডাঙা তুলসীরাম হাই স্কুল
বৃষ্টির ভ্রুকুটি
শরৎকাল এলেই পুজো পুজো গন্ধ ভেসে আসে। ভোরে শরতের হিমেল হাওয়া, সঙ্গে কাশফুলের দোলন, আকাশে সাদা পেঁজা তুলো মেঘের সারি ভেসে বেড়াচ্ছে। সত্যিই কী অপূর্ব নীলাকাশ! জানান দিচ্ছে যে দুর্গাপুজো আসন্ন। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তর উল্টো কথা বলছে। এবার পুজোয় নাকি বৃষ্টি হবে। চারপাশ জলমগ্ন হতে পারে। তবে, তাতে কী আসে যায়! এমন আনন্দ তো আর হাতছাড়া করা যায় না, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা।
ছাতা মাথায় দিয়েই মা দুগ্গাকে দেখতে বেরিয়ে পড়ব। বৃষ্টি হলেও পুজোর আনন্দে ভাটা পড়বে না। এ বছর পুজোয় মেচেদা আর কোলাঘাটে মণ্ডপ ও প্রতিমায় নানারকম চমক থাকছে। তাই অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার দিন গুনছি। দোকানে ঘুগনি, এগরোল, ফুচকা ও শেষে আইসক্রিম খাব। আইসক্রিম আমার খুবই পছন্দের। ঠাকুরকে ডাকব যেন ঝড়-বৃষ্টি না আসে। আর একটা কথা, পুজোর প্যান্ডেলে সমাজ ও পরিবেশ সচেতনতা সম্পর্কিত তথ্য বা নির্দেশাবলি ফেস্টুন আকারে প্রদর্শিত হলে ভালো হয়। পুজো সকলের ভালো কাটুক এই আশা করি।
মন্দ্রিতা মান্না পঞ্চম শ্রেণি, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুল, কোলাঘাট
আগমনির বার্তা
শরতের নীল আকাশে কাশবনে ঢেউ তুলে শিউলি ফুলের গন্ধকে সঙ্গী করে আগমনির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। স্বচ্ছ দিঘির জলে প্রস্ফুটিত পদ্ম জানান দিচ্ছে পুজোর আর দেরি নেই। আগমনির আলোয় সেজেছে শহর। অন্য কোনও পুজোর চেয়ে বাঙালি যে শারদ উৎসবে সবচেয়ে বেশি মেতে উঠে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারের পুজোর প্ল্যান আমি একটু অন্যভাবে তৈরি করেছি। উলুবেড়িয়ায় এক গ্রামে আমার মামার বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়। প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন পুজো। অন্য বছর আমরা সেখানে যাই ষষ্ঠী বা সপ্তমীতে, সেইদিনই ফিরে আসি। কলকাতায় ঘোরার জন্য আর সেখানে থাকা হয় না। তাই আমি এবার ভেবেছি তৃতীয়া থেকে পঞ্চমীতে কলকাতার ঠাকুর দেখব। তারপর ষষ্ঠীতে আমার শহর হাওড়ার প্যান্ডেলগুলোতে ঢুঁ মেরে সপ্তমীতে রওনা দেব মামার বাড়ির উদ্দেশে। আর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী ঢাকের তালে আলাদা রকমের এক আনন্দে কাটিয়ে দেব সেখানে। বলাইবাহুল্য, ওখানে ভাই-বোন,আত্মীয়-স্বজনরা আসে। সকলের সঙ্গে আনন্দ করে এবারের পুজোয় এক অন্য অভিজ্ঞতার
সাক্ষী হতে চলেছি।
স্বর্ণদীপ দে অষ্টম শ্রেণি, হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন
দার্জিলিং যাব
মহালয়ার ভোর থেকেই আমাদের পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতি বছরই পুজোর সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। এ বছর দার্জিলিং বেড়াতে যাব। দার্জিলিংয়ে পাহাড় আছে শুনেছি। এর আগে আমি কোনওদিন পাহাড় দেখিনি। কিন্তু তার আগে চতুর্থী ও পঞ্চমীতে বর্ধমানে অনেক ঠাকুর দেখব। ফুচকা, আইসক্রিম খাব।
সঞ্চয়ন পড়্যা প্রথম শ্রেণি, বর্ধমান মডেল স্কুল
বন্ধুদের সঙ্গে টইটই
প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকে কাঠি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার পুজোর প্ল্যান করে ফেলেছি। পুজোর দিনগুলোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। চতুর্থী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে হাতিবাগান, বাগবাজার, কুমোরটুলি, টালা প্রত্যয়, দমদম পার্ক সহ অনেক জায়গায় ঘুরব বলে পরিকল্পনা করেছি। সারাদিন ঘোরাঘুরি, আড্ডা, জমিয়ে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর গল্প হবে। অষ্টমীর দিন শাড়ি পরে মা ও দিদির সঙ্গে পাড়ার ক্লাবের মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে যাব। বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের নিরামিষ লুচি আর আলুর দম খাব। বিকেলে পরিবারের সঙ্গে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চালতা বাগান, কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্কে ঠাকুর দেখব। নবমীর দিন বাড়িতে আত্মীয়রা আসবে। সেদিন দেদার ভূরিভোজের আয়োজন করা হবে। দশমীতে সবাই মিলে প্রিন্সেপ ঘাটে বিসর্জন দেখতে যাব। পুজোর দিনগুলোর জন্য আমি মুখিয়ে আছি।
জয়শ্রী দাস দ্বাদশ শ্রেণি, টাকি হাউস
গভর্নমেন্ট স্পনসরড
গার্লস হাই স্কুল