Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বিল নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সময়সীমা, ‘সুপ্রিম’ রায় নিয়ে পুনর্বিবেচনা চাইতে পারে কেন্দ্র

রাজ্য বিধানসভাগুলিতে অনুমোদিত বিলগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানানোর ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিল নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সময়সীমা, ‘সুপ্রিম’  রায় নিয়ে পুনর্বিবেচনা চাইতে পারে কেন্দ্র
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: রাজ্য বিধানসভাগুলিতে অনুমোদিত বিলগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানানোর ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এবার এই সময়সীমার বিষয়টির পুনর্বিবেচনা চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে মোদি সরকার। রাজ্যপাল কোনও বিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তা রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির কাছে বিল আটকে থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে বলে ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, সময়সীমার পাশাপাশি এই নির্দেশিকা নিয়েও রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারে কেন্দ্র।

Advertisement

বিরোধীদের দাবি,  এই রায়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপি। সূত্রের খবর, এর প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর্যালোচনা চাইতে পারে কেন্দ্র। ওই সূত্র থেকে আরও জানা যাচ্ছে,  সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়েরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। কীসের ভিত্তিতে এই পিটিশন দায়ের করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। আর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরই বিষয়টি জানা যাবে। ওই রায় দিয়েছিল বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। কাজেই রায়ের পর্যালোচনা চাইলে ওই বেঞ্চেই আর্জি জানাতে হবে। 
বিভিন্ন অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে রাজ্যপাল ও সরকারের সঙ্ঘাত নতুন কিছু নয়। বিল আটকে রাখা, বিভিন্ন রীতি বহির্ভূত কার্যকলাপের  মাধ্যমে রাজ্যপালরা বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এভাবে রাজ্যপালদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিল আটকে রাখা নিয়ে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের সঙ্গে রা‌জ্যপালের সঙ্ঘাতের জের গড়িয়েছিল শীর্ষ আদালতে। বিধানসভায় অনুমোদিত ১০টি বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার অছিলায় ঝুলিয়ে রেখেছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিল মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকার। মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, বিধানসভায় পাশ হওয়া কোনও বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারবেন না রাজ্যপাল। বিল নিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণে রাষ্ট্রপতির জন্যও ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিবেচনার জন্য আসা যে কোনও বিলে মতামত জানানোর ক্ষেত্রে এই প্রথম রাষ্ট্রপতির জন্যও বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা। বাড়তি সময় লাগতে তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে। ওই রায়ের সূত্রেই রাজ্যপালের স্বাক্ষর ছাড়াই ১০টি বিল আইনে পরিণত হয়েছে তামিলনাড়ুতে।  মামলার বিস্তারিত রায় গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ