নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এতদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার সরব হয়েছেন। সংসদের ভিতরে ও বাইরে তৃণমূল টানা প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কেন্দ্র তথা বিজেপির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূলের অন্যতম প্রধান সংঘাতের বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলাকে আর্থিক বঞ্চনা। এবার এই ইস্যুতে সরব হতে দেখা গেল খোদ সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকেও। বুধবার গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েতী রাজ সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে লোকসভায়। রিপোর্টে পৃথকভাবে বাংলার প্রতি আর্থিক বঞ্চনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে কমিটির রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তাদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হোক। কেন কেন্দ্র এভাবে তাদের প্রাপ্য অর্থ বছরের পর বছর আটকে রেখেছে? এভাবে প্রাপ্য কেন্দ্রীয় অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে আটকে রাখায় বিশেষ করে গ্রামীণ জনজীবনে প্রবল বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ এবং বর্তমান আর্থিক বছর। কয়েক বছর ধরেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে। এতে গ্রামীণ মানুষের সমস্যা বাড়ছে। কারণ, এর ফলে কাজ না পেয়ে, জীবিকার সঙ্কটে পড়ে বাংলার গ্রামে গ্রামে মাইগ্রেশন বেড়ে গিয়েছে। রাজ্যকে এভাবে আর্থিক পঙ্গুত্বের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, বর্তমান আর্থিক বছরের আদালতে বিচারাধীন বিষয় ছাড়া অন্য বকেয়া অর্থ দ্রুত কেন্দ্র দিয়ে দিক পশ্চিমবঙ্গকে।
শুধুই বঙ্গবঞ্চনাই নয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টে ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বহু রাজ্যেই মজুরি এবং কাজের উপকরণ বাবদ যে ব্যয় হয়, সেই টাকাও বকেয়া। অন্যদিকে আবার বহু টাকা খরচই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) খাতে ১৫ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাতেও সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়নি। ১ লক্ষ ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে গ্রামোন্নয়নে খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা। যা থেকে প্রমাণ হয় যে, পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটির এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলার উন্নয়ন আটকে যায়, এরকম কোনও অবস্থান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নেওয়া কাম্য নয়। প্রসঙ্গত এই অভিযোগই লাগাতার করে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সংসদের অভ্যন্তরে লাগাতার এই নিয়ে বিরোধিতা ও সংঘাত চলছে। কখনও গিরিরাজ সিং, কখনও নির্মলা সীতারামণরা পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তারা বকেয়া অর্থ এখনই দেবেন না। তার মধ্যেই সংসদে পেশ হল স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট।