


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে কয়েকবছর আগে দেশজুড়ে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’ চালু করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দপ্তরে ঘুষের রমরমায় রাশ টানতে করদাতার পরিচয় গোপন রেখে করনির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করার মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে তিনি বেছে নেন বিজয়া দশমীকে। সেবার পুজোর আগে কলকাতায় এসে সেই নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শহরে এসে পরোক্ষ কর সংস্কারের কথা বলতে গিয়ে সেই ‘পুজো’ প্রসঙ্গই আনলেন তিনি। বাঙালির আবেগ উসকে দিতে তিনি বললেন, জিএসটির নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে পিতৃপক্ষ অপবসানের পর দেবীপক্ষের সূচনা।
এদিন নির্মলা সীতারামন বলেন, জিএসটিতে কর কাঠামো ও করের হারে যে পরিবর্তন করা হয়েছে, তা কার্যকর হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রথমে বলা হয়েছিল, জিএসটির বোঝা কমানোর সিদ্ধান্ত দেওয়ালির উপহার হিসেবে পরিবেশিত হবে আম জনতার কাছে। কিন্তু তার আগেই তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কবে? ১০ সেপ্টেম্বর? ১৫ সেপ্টেম্বর? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছা ছিল, নবরাত্রির সূচনার পুণ্যলগ্নে নয়া জিএসটি ব্যবস্থা কার্যকর হোক। তাই দুর্গাপুজোকে সামনে রেখেই মহালয়ার পরদিন থেকে নয়া ব্যবস্থা চালু হচ্ছে দেশজুড়ে।
শুধু পুজোর আবেগকে সামনে এনেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নয়া জিএসটি ব্যবস্থায় বাংলার কী কী লাভ হবে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তিনি। বাংলার যেসব পণ্য দেশজুড়ে ও দেশের বাইরেও জনপ্রিয়, সেগুলিতে জিএসটির নয়া হার কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে, তার ফর্দ পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। সেই তালিকায় আছে শান্তিনিকেতনের চর্মজাত পণ্য, বাঁকুড়ার টেরাকোটা, মাদুরকাঠির তৈরি মাদুর, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ, নকশিকাঁথা, মালদহের আমজাত পণ্য, দার্জিলিং চা, পাটের তৈরি ব্যাগ প্রভৃতি। তিনি জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিএসটির হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হোসিয়ারি ও রেডিমেড পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে পণ্যের উপর যে নয়া জিএসটি চালু হয়েছে, তাতে এখানকার মেটিয়াবুরুজ, বারুইপুর বা শিলিগুড়ির কারিগর ও ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হবেন, সেই ব্যাপারেও জানান তিনি। জিএসটি সংক্রান্ত আলোচনার মাঝেই অবশ্য নির্মলা সীতারামন বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার কতটা উদারহস্ত, তারও প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
জিএসটির নয়া কাঠামোয় ৫ ও ১৮ শতাংশের ধাপ রাখা হয়েছে। তা আগামী দিনে একটিমাত্র করের দিকে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই আমরা একটিমাত্র করের হারের জন্য প্রস্তুত নই, কিন্তু ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা থাকছে। পাশাপাশি তিনি বুঝিয়ে দেন, রাজস্ব ক্ষতি বাবদ রাজ্যগুলি যে দাবি করছে, সেই ক্ষতিপূরণ কেন্দ্র দেবে না। নির্মলা সীতারামন বলেন, করের হার, কর কাঠামো বা রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। তার জন্য প্রতিটি রাজ্যের অর্থমন্ত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখেছি। তবে বিরোধীদের কেউ কেউ ক্ষতিপূরণের কথা বলছেন। আমার কাছে টাকার ব্যগ নেই, যা থেকে রাজ্যগুলিকে দিয়ে দেব। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক ‘দাতা ও গ্রহীতা’র নয়। রাজ্যের সঙ্গেই কেন্দ্রেরও রাজস্ব ক্ষতি হবে। জিনিসপত্রের দাম কমার দরুন বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কৌশলকে কাজে লাগিয়েই রাজস্ব পূরণ করতে হবে সকলকে।