Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অণ্ডাল, রানিগঞ্জে নতুন ফ্লাইওভার

অণ্ডাল, রানিগঞ্জে নতুন ফ্লাইওভার
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর কার্যত মরণফাঁদের রূপ নিয়েছে রানিগঞ্জের বক্তারনগর ওভারব্রিজ ও অণ্ডাল থানার কাজোড়া ওভারব্রিজ। ছ’লেনের ব্যস্ত জাতীয় সড়কে এই দুই ওভারব্রিজই ৪ লেনের। যানজটের পাশাপাশি ঝড়ের গতিতে ছুটে যাওয়া গাড়িগুলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। তখন চরম যানজটের মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। সেই সমস্যা এবার মিটতে চলেছে। দুই জায়গায় নতুন করে ব্রিজ বানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দু’পাশেই একটি করে নতুন লেন তৈরি হবে। এরই পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়া ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে যতগুলি সংকীর্ণ ব্রিজ করেছে, সেগুলির সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষর আশা, এতে একদিকে দুর্ঘটনা কমবে। অন্যদিকে, যানজট সমস্যা ঩মিটে গিয়ে গাড়ির গতি বাড়বে। 

Advertisement

যদিও এই উদ্যোগের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বরাকর ব্রিজ। জানা গিয়েছে, অবিভক্ত বিহার থাকাকালীন বাংলা-বিহার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া বরাকর নদীর উপর ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ব্রিজটি তৈরি হয়। ৪ লেনের সেই ব্রিজের নকশা বিহার সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছিল। এখনও তা পাওয়া যায়নি। বিনা নকশায় এই ব্রিজ সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে বলে এনএইচএআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এনএইচএআইয়ের দুর্গাপুরের প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রমোদ মাহাত বলেন, ‘অণ্ডাল, রানিগঞ্জ সহ চারটি বড় ব্রিজ আমরা তৈরি করব। সেখানে ৪ লেনের ব্রিজের পরিবর্তে ৬ লেনের ওভারব্রিজ করা হবে। এছাড়া যে সব রাস্তার উপর ছোট ছোট ব্রিজ করে সবগুলিকেই ছ’লেনের উপযুক্ত করা হবে। আমরা লক্ষ্য করেছি, সংকীর্ণ এলাকাগুলিতে দুঘর্টনার প্রবণতা বাড়ছে।’ বরাকর ব্রিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন। বিষয়টি দেখে জানাতে পারব।’ 
রাহুর রায় ও অম্বিকেশ পাত্র প্রতিদিন আসানসোল-দুর্গাপুর বাইক নিয়ে যাতায়াত করেন। বাঁশড়া মোড়ে চায়ের ভাঁ‌ড় হাতে নিয়ে তাঁরা বলছিলেন, ‘সন্ধ্যার পর রানিগঞ্জ থেকে দুর্গাপুর যাওয়া রীতিমতো কঠিন। অনেক সময়ে জাতীয় সড়কের উপর থাকা ওভারব্রিজের আলো জ্বলে না। তার উপর হঠাৎ বক্তানগর ও কাজোড়ার ওভারব্রিজের সংকীর্ণ রাস্তায় বাইক আরোহীদের প্রাণ হাতে চলতে হয়।’ তাঁদের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে দীপশিখা পাল বলেন, ‘আমিও প্রায়ই ওই ব্রিজের উপর দিয়ে স্কুটি নিয়ে যাতায়াত করি। এক একসময় মনে হয়, গাড়িগুলি গায়ের উপর দিয়ে চলে যাবে।’ 
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের গঠনগত ক্রটি নিয়ে বহু চর্চা হয়েছে। বহু অপ্রয়োজনীয় জায়গায় ব্রিজ হয়ে গিয়েছে। আবার রানিসায়ের, চাঁদার মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কোনও ওভারব্রিজ নেই। চাঁদা ওভারব্রিজের কাজ বহু সমালোচনার পর শুরু হয়েছে। তারপর সমস্যা হচ্ছিল সংকীর্ণ ওভারব্রিজ নিয়ে। 
অবশেষে সেই জটিলতাও কাটল। এবার প্রশ্ন বরাকর ব্রিজের ভবিষ্যত কী? এমনিতেই ব্রিজটির ফুটপাতের বেহাল দশা। এমন অবস্থা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে রেলিং দিয়ে ঘিরতে হয়েছে। যাতে কেউ ফুটপাতে উঠে না পড়ে। সংকীর্ণ ব্রিজটির উপর গাড়ির চাপও অত্যাধিক। এখন দেখার, নকশা ছাড়া নিরাপদে ব্রিজ সম্প্রসারণ করতে পারে কিনা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।   

সম্পর্কিত সংবাদ