Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালকদের বিদেশে চাকরির নামে করানো হচ্ছে শৌচালয় পরিষ্কার

এজেন্টদের টার্গেটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নাবালকরা। তাদের বয়স বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ভুয়ো নথি তৈরি করা হচ্ছে। আধার কার্ডে তাদের কারও বয়স ১৬, আবার কারও ১৮ বছর।

নাবালকদের বিদেশে চাকরির নামে করানো হচ্ছে শৌচালয় পরিষ্কার
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এজেন্টদের টার্গেটে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নাবালকরা। তাদের বয়স বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ভুয়ো নথি তৈরি করা হচ্ছে। আধার কার্ডে তাদের কারও বয়স ১৬, আবার কারও ১৮ বছর। অথচ তাদের বয়স ২২, ২৩ বছর দেখানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আধার কার্ডের তথ্য অনুযায়ী  মুর্শিদাবাদের এক কিশোরের বয়স ২০১৮ সালের ছিল ১৬ বছর ৮ মাস। জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ ছিল ২২ জুন, ২০০১। অথচ পাসপোর্টে তার জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ১১ জানুয়ারি, ১৯৯৬। আর এক কিশোরের আধার কার্ড অনুযায়ী জন্মতারিখ ২ মার্চ, ২০০১। পাসপোর্টে তার বয়স উল্লেখ রয়েছে ২ মার্চ ১৯৯৭। বিভিন্ন জেলায় এভাবেই এজেন্ট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নাবালকদের ভিনদেশে পাঠিয়ে তারা মোটা টাকা ফায়দা তুলছে।

Advertisement

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সামাজিক কাজ করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, নাবালকরা সৌদি বা দুবাইয়ে গিয়ে বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে। তখন তাদের কিছু করার থাকে না। সমস্ত নথি এজেন্টদের লোকজন নিজেদের কাছে জমা রাখে। অনেকে ভিনদেশে কাজ করতে গিয়ে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যায়। সৌদি আরবে এরাজ্যের বেশকিছু নাবালক জেলে রয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজনেরা সাহায্য নেওয়ার জন্য আমার কাছে আসে। তখনই জানতে পারি, তাদের বয়স বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাসপোর্টের বয়সের সঙ্গে আধারের জন্ম তারিখের কোনও মিল নেই। একটি চক্রের সহযোগিতা নিয়ে পাসপোর্টে বয়স বাড়ানো হচ্ছে। বহুদিন ধরেই চক্রটি কাজ করছে। নাবালকদের মগজধোলাই করে তাদের পাঠানো হচ্ছে সৌদি আরবে। মোটা টাকা বেতনের চাকরির অশ্বাস দিয়ে ভিনদেশে তারা নাবালকদের নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আদতে তাদের দেওয়া হচ্ছে শৌচালয় পরিষ্কারের কাজ। সৌদির কোনও হাসপাতাল বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের শৌচালয় তাদের দিয়ে পরিষ্কার করানো হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো বিভিন্ন জেলাতেই ড্রপআউটের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সরকার পড়াশোনার চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। তারপরও ড্রপআউট বেড়ে যাওয়ায় আধিকারিকদের চিন্তা বেড়েছে। স্কুলে পড়ার সময় নাবালকদের কাজ দেওয়ার টোপ দিচ্ছে এজেন্টরা। অভিভাবকদেরও তারা মগজ ধোলাই করছে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকেই তারা টার্গেট করে। অনেক সময় বাবা-মায়েরাও নিজেদের অজান্তেই নাবালক ছেলেদের ভালো কাজের আশায় এজেন্টদের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু কয়েক মাস পর তাদের মোহভঙ্গ হয়। অনেক নাবালকদের সঙ্গে তাদের পরিবারের যোগাযোগ থাকে না। সৌদি আরব বা  দুবাই নয়, এদেশের ও বিভিন্ন রাজ্যে নাবালকদের কাজের জন্য এজেন্টরা নিয়ে যায়। যদিও এক্ষেত্রে কাজ পছন্দ না হলে অল্প বয়সিরা ফিরে আসতে পারে। কিন্তু যারা ভিনদেশে যায় তাদের কাছে সেই সুযোগও থাকে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ