


মুম্বই: ভারতের উপর আমেরিকার চড়া হারে শুল্ক চাপানোর জের? শুক্রবার পতনের রেকর্ড গড়ল ভারতীয় টাকা। একটা সময় মার্কিন ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম পৌঁছে যায় ৮৮ টাকা ৩৩ পয়সায়। পরে তা কিছুটা উঠে ৮৮ টাকা ১৯ পয়সায় এসে দাঁড়ায়। এই প্রথম ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৮৮ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৫০ শতাংশ ‘শুল্ক-বাণ’-এর মোকাবিলা এখনও সামলে উঠে পারেনি ভারতীয় বাজার। তার জন্যই টাকার দামের এমন পতন। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ডলারের নিরিখে টাকার দাম ছিল ৮৭ টাকা ৫৮ পয়সা। এদিন বাজার খোলার সময় ভারতীয় মুদ্রার দাম ছিল ৮৭ টাকা ৭৩ পয়সা। কিন্তু তারপর থেকেই ক্রমশ দামের পতন শুরু হয়। বৃহস্পতিবারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৬১ পয়সা কমে তা পৌঁছে যায় ৮৮ টাকা ১৯ পয়সায়।
এর আগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারিও টাকার দাম ডলারের নিরিখে ৮৮ ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেবার ভারতীয় মুদ্রার দাম পৌঁছায় ৮৭ টাকা ৯৫ পয়সায়। এরপর গত ৫ আগস্টও ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৮৭ টাকা ৮৮ পয়সায় পৌঁছায়। দেশীয় বাজারও জোরদার না হওয়ায় টাকার দামের আরও পতনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, এই নিয়ে টানা তিন দিন শেয়ার বাজারে পতন হল। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স এদিন একটা সময়ে ৩৩৮ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে ৭৯,৭৪১.৭৬-এ গিয়ে দাঁড়ায়। তবে দিনের শেষে সেনসেক্সের কিছুটা উত্থান ঘটে। দিনের শেষে এই সূচক গিয়ে দাঁড়ায় ৭৯,৮০৯.৬৫ পয়েন্টে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটিও এদিন ৭৪.০৫ পয়েন্ট পড়ে ২৪,৪২৬.৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে অর্থনীতির এই খারাপ দিকের মধ্যে আশার আলো দেখিয়েছে জিডিপি। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, এপ্রিল থেকে জুন-এই ত্রৈমাসিকে জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যাশার চেয়েও এই বৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ বেশি। গত পাঁচটি ত্রৈমাসিকের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। গত আর্থিক বছরের এই সময়ের তুলনাতেও এই বৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ের মধ্যে চীনের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৫.২ শতাংশ। এর আগে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮.৪ শতাংশে পৌঁছেছিল।