


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই সামশেরগঞ্জে এসে দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি এ কথা নিজেই ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা শুনে আশায় বুক বেঁধেছে সামশেরগঞ্জবাসী। এর আগেও সামশেরগঞ্জের ভাঙন কবলিত এলাকায় নদীর তীরে মঞ্চ বেঁধে সভা করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেখান থেকে ২০০ কোটি টাকা ভাঙনের জন্য বরাদ্দ করেছিলেন। গৃহহীনদের হাতে নিজেই জমির পাট্টাও তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই সামশেরগঞ্জে এসে হিংসাত্মক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনবেন তিনি। রবিবার রাতেই সমস্ত ঘরছাড়ারা এলাকায় ফিরেছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে পৌঁছাচ্ছেন। জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে, যা যা করণীয় সেগুলি তৎপরতার সঙ্গে করা হচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘মনে রাখবেন একটা অশান্তি হয়েছে, সেটা দুঃখজনক। সেটাও বহিরাগতেরা কিছু স্থানীয় লোককে সঙ্গে নিয়ে করেছে। কীভাবে করেছে, সেই চক্রান্ত আমরা ফাঁস করে দেব। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে কথা দিয়েছি, ১০ লক্ষ টাকা করে দেব। আমাদের সাংসদেরাও বলে এসেছেন, দরকার হলে তাঁদের বাচ্চাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে সরকার।’’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম-মোয়াজ্জিমদের সম্মেলন থেকেও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, অশান্তিতে নিহত তিন জনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার। যাঁদের বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বাড়ি করে দেওয়া হবে। যাঁদের দোকান লুটপাট হয়েছে, তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তার হিসাব করার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে। জেলা প্রশাসন যেমন কাজ করছে সেই কাজের পাশাপাশি এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সামশেরগঞ্জের মানুষকে নিয়ে যে কতটা চিন্তিত, তা বুঝিয়েছেন।
মঙ্গলবারও আশ্বাসের সুরে মমতা বলেন, ‘‘কাদের বাড়ি, দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা আমরা সমীক্ষা করে দেখছি। আমি মে মাসের শুরুতে যাব, তখন গিয়ে বাদবাকিটা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিয়ে আসব। এটুকু ভরসা আপনারা করতে পারেন, এটুকু নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন সামশেরগঞ্জবাসী। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রথম থেকেই চাইছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে এলাকায় আসুন। তাদের উপরে যে তাণ্ডব চলেছে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই জানাবেন তাঁরা। এদিন বেতবোনার এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় পুলিসের উপর আমাদের ভরসা নেই। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা আছে। উনি আসবেন সেটা শুনে আমাদের ভালো লাগছে। আশায় আছি আমরা। তাঁর সামনে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরব।
জাফরাবাদে এক মহিলা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন এ ছাড়া আর কিছু চাই না। স্থানীয় পুলিসের উপর ভরসা করা যায় না। আমরা ওনার কাছেও বিএসএফ ক্যাম্পের দাবি জানাব। এদিন সামশেরগঞ্জ ব্লকের রানিপুর, পালপাড়া, সাহাপাড়া, দাসপাড়া, জাফরাবাদ, হিজলতলা এবং লালপুর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। সাংসদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিধায়ক আমিরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রত্যেকের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন তাঁরা। খলিলুর সাহেব বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সাহায্য করা হচ্ছে। তিনজন বিধায়ক ও বিড়ি ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে মিলে সাহায্য করছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছি। এদিন ২৫০ পরিবারকে সাহায্য দিয়েছি। প্রত্যেককে অন্তত দশ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি বেশি হয়েছে তাদের ৫০ হাজার টাকা প্রাথমিকভাবে দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর কথা বলেছি। সম্পূর্ণ ছন্দে ফিরেছে সামশেরগঞ্জ। আমরা প্রত্যেকেই মানুষের পাশে আছি। এখানে কেউ অসহায় নয়। -নিজস্ব চিত্র