Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৩৮০ বছর বৈশাখ মাসজুড়ে জাঁকজমক পুজো ‘মা জহরা’র

ষোলোশো শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়। আনুমানিক ৩৮০ বছর আগের ঘটনা। বৈশাখ মাস। তৎকালীন গৌড় বাংলার একটি আম বাগানে ধ্যানে বসেছিলেন ছল্ল তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি।

৩৮০ বছর বৈশাখ মাসজুড়ে জাঁকজমক পুজো ‘মা জহরা’র
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ষোলোশো শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়। আনুমানিক ৩৮০ বছর আগের ঘটনা। বৈশাখ মাস। তৎকালীন গৌড় বাংলার একটি আম বাগানে ধ্যানে বসেছিলেন ছল্ল তিওয়ারি নামে এক ব্যক্তি। ধ্যানমগ্ন অবস্থাতেই আম বাগানের জঙ্গলে ‘মা জহরা’র বেদির কথা জানতে পারেন। ধ্যান শেষ করে জঙ্গলের মধ্যে তিনি সেই বেদির সন্ধান করে মা জহরার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা মাস হিসেবে পুরো বৈশাখ মাস ধরেই জাঁকজমক করে মায়ের পুজো করা হয়। ভক্তদের মুখে মুখে জহরা মায়ের কথা গঙ্গা পেরিয়ে বিহার, উত্তর-পূর্ব ভারত, অবিভক্ত বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। মায়ের দর্শন পেতে বাংলার পাশাপাশি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈশাখ মাসে ভক্তরা ছুটে আসেন। সারা মাস ধরে আম বাগানের মধ্যেই চলে বিশাল মেলা। প্রথম একশো বছর শুধুমাত্র বেদিতেই মা জহরা পুজিত হন। 

Advertisement

এর ঠিক একশো বছর পরে সাধক হীরারাম তিওয়ারি স্বপ্নাদেশ পান। যেখানে তিনি প্রথম মায়ের মুখ দর্শন করেন। সেটাও ছিল বৈশাখ মাস। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি মায়ের মুখের আদলে তিনটি মুখোশ তৈরি করেন। বর্তমানে যা মায়ের বেদির সামনে রেখে পুজো করা হয়। 
তিওয়ারি বংশের নবম পুরুষ কল্যাণ তিওয়ারি বর্তমানে মন্দিরের পুজো পাঠ থেকে শুরু করে যাবতীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন। তাঁকে সমস্ত কাজে সহযোগিতা করছেন ছেলে বংশের দশম পুরুষ সায়ন তিওয়ারি। 
কল্যাণ জানান, সারা বছর শনি ও মঙ্গলবার মায়ের পুজো হয়। অন্যান্য দিন মন্দির বন্ধ থাকে। তবে বিশেষ দিন, যেমন দুর্গাপুজোর চারদিন, কালীপুজো, দোল উৎসবেও মন্দির খোলা থাকে। সেই দিনগুলিতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। সামনেই পয়লা বৈশাখ। সেদিন দশ কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে মায়ের নতুন প্রতিমা এনে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সারা বছর শুধুমাত্র শনি, মঙ্গলবার মন্দির খোলা থাকলেও বৈশাখ মাসে প্রতিদিন মায়ের পুজো হয়। 
সেবাইত কল্যাণ আরও জানান, বৈশাখ মাসে মেলা চলাকালীন ভক্তদের এতটাই ভিড় থাকে, সকাল থেকে রাত দুটো-আড়াইটে পর্যন্ত পুজো চলে। পরদিন আবার সকাল থেকে পুজো শুরু হয়। 
কথিত আছে মায়ের আশীর্বাদ পেলে যে কোনও রোগ সেরে যায়। আগামী বছর পয়লা জানুয়ারিতেও খোলা হবে জহরা মায়ের মন্দির।  নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ