


সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, বেলদা: একদিকে, শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের দুই শিক্ষক প্রার্থী। অন্যদিকে, বামেদের ঘরের মেয়ে। কেশিয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই এবার এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। যেখানে ব্যক্তিত্ব আর গ্রহণযোগ্যতা ভোট প্রাপ্তির অনুঘটক।
জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি রামজীবন মাণ্ডি। তিনি রথীপুর বরদা বাণীপীঠ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক। জন্ম শালবনীতে। থাকেন মেদিনীপুরে। ২০২১ সাল থেকে দলের প্রচারের কাজে যুক্ত। কেশিয়াড়ির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় যোগ। বুধবার তিনি বলছিলেন, ‘আমার বিপক্ষে যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি একজন শিক্ষক হয়ে কি করে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন বুঝি না। আদিবাসীদের নিয়েও যে দল ভাবেন না, সেই দলের কীভাবে প্রার্থী হয়েছেন সেটাই বড় বিস্ময়ের। কেশিয়াড়ির মানুষ সবটাই বুঝতে পারছেন।’ যাঁকে এভাবে খোঁটা দিলেন তিনি রামজীবনবাবুর প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী ভদ্র হেমব্রম।
নারায়ণগড়ের নেকুড়সেনী সাঁওতালি মাধ্যম হাইস্কুলের সহ-শিক্ষক ভদ্রবাবু। রাজনীতির ময়দানে তিনি নতুন নন। তবে, ‘দলবদলু’ বলে তাঁর একটা তকমা রয়েছে। একদা দাঁতনের বিদায়ী বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধানের হাত ধরে তৃণমূলে এসেছিলেন। জেলা তৃণমূলের এসটি সেলের সভাপতিও ছিলেন তিনি। একুশের ভোটে নারায়ণগড়ের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টের নির্বাচনী প্রতিনিধির দায়িত্বও সামলেছেন ভদ্রবাবু। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তৃণমূল প্রার্থীর সমালোচনার জবাবে ভদ্রবাবু বলেন, ‘তৃণমূলের যিনি প্রার্থী তিনি আদিবাসীদের উন্নয়নে নজর দেননি। সে শিক্ষাই হোক কিংবা আদিবাসীদের অপমান—কোনও কিছুতেই তাঁকে দেখা যায়নি। মানুষ সময়মত জবাব দেবে।’
রামজীবনবাবু আর ভদ্রবাবুর দ্বৈরথের মাঝে ঘর গোছাতে ব্যস্ত সিপিএমের মলিনা মুর্মু। কেশিয়াড়ি ছিল একদা সিপিএমের দুর্গ। পালা বদলের পর বামেদের ভোট ব্যাঙ্কের একটা বড় অংশ রামেদের শক্তিবৃদ্ধি ঘটায়। এবার চাকা ঘুরছে। সিপিএমের কর্মীরা ফের ঘরে ফিরছেন। এই ট্রেন্ড মলিনার কাছে প্লাস পয়েন্ট। সঙ্গে তাঁর উপরি পাওনা তিনি কেশিয়াড়ির ‘ঘরের বধূ’। প্রাক্তন বামমন্ত্রী মহেশ্বর মুর্মুর পুত্রবধূ। প্রচারে নেমেই দুই শিক্ষককে বহিরাগত তকমা সাঁটিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছেন।
কেশিয়াড়ির এলাসাই গ্রামে মহেশ্বরবাবুর বাড়ি। তিনিই মলিনাদেবীর রাজনৈতিক গুরু। ফলত, বাম রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত সাবলীল বলে এলাকায় পরিচিত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি এদিন বলছিলেন, ‘তৃণমূল ও বিজেপির দুই প্রার্থী বহিরাগত। ১৬ বছর ধরে আমি কেশিয়াড়ির বাসিন্দা। শ্বশুরমশাইকে দেখে সরাসরি রাজনীতিতে আসি। বাংলায় বেকার সমস্যা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ বামেদের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছেন। ভুল বুঝে আমাদের দলের কর্মীরা যাঁরা বিজেপির পতাকাতলে গিয়েছিলেন তাঁরা ফিরতে শুরু করেছেন।’ এখন দেখার দুই শিক্ষকের রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই নাকি মলিনার ‘ঘরের বধূ’ ইমেজ, কোনটা কেশিয়াড়ি আপন করে নেয়।