


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রথম সুযোগেই সর্বভারতীয় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) পরীক্ষায় দ্বিতীয় হলেন মেদিনীপুর শহরের কেরানিতোলার বাসিন্দা খুশি শিকারিয়া। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই খুশির পরিবারে খুশির হাওয়া। কৃতী এই মেয়েকে নিয়ে গর্বিত মেদিনীপুর শহরের শিক্ষামহলের সঙ্গে জড়িতরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত খুশি। পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ এবং অধ্যবসায় এই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন খুশির শিক্ষকরা। মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, বিশ্ব নারী দিবসের দিন এমন একটি সুখবর পাওয়া সত্যিই গর্বের। খুশির এই সাফল্য জেলার অন্য পড়ুয়াদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
জানা গিয়েছে, খুশি মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের ছাত্রী। মাধ্যমিকে তিনি ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজর কাড়েন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন খুশি। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সম্প্রতি কলকাতার একটি কলেজে অ্যাকাউন্টান্সি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তার মধ্যেই সিএ পরীক্ষায় প্রথমবারেই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নিজের এই সাফল্য নিয়ে খুশি বলেন, এমন সাফল্যের পিছনে আমার পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশি। ওঁরা সবসময় পাশে থেকেছেন এবং আমাকে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। আমার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন।
খুশির বাবা শচীন শিকারিয়া পেশায় ব্যবসায়ী ও মা প্রীতি শিকারিয়া গৃহিণী। মেয়ের এই সাফল্যে তাঁদের বক্তব্য, খুশি ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সারা দিন পড়াশোনা নিয়েই থাকে। প্রথমবারেই এত বড় সাফল্য পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমাদের মেয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছে। খুশির কাকা অনিল শিকারিয়া বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। কঠোর পরিশ্রমেই এই সাফল্য। খুশি তামাম মেদিনীপুরের গর্ব। এই সাফল্যে ওকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলার বিশিষ্টজনেরা।
খুশি শিকারিয়া।-নিজস্ব চিত্র