


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: ২২ এপ্রিল ২০২৫। ভারতের ইতিহাসে কালো দিন। বিশেষ করে কাশ্মীরের জন্য। ওই দিনই পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৫ জনের। নিরীহ পর্যটকদের পাশাপাশি প্রাণ যায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীরও। এই ঘটনায় কাশ্মীরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তারপর ভারতীয় সেনার অপারেশন সিন্দুর। এই ঘটনাক্রমের জেরে গত এক বছরে অনেকেই ভূস্বর্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে হলেও ভয় কাটছে পর্যটকদের। আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উপত্যকা।
পহেলগাঁও হামলার পর প্রায় আট মাস এলাকা কার্যত ফাঁকা ছিল বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় গোলাম নবী বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। হোটেল, ঘোড়ার মালিক, গাইড, পরিবহনকারী—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন’। তবে শীতের মরসুম থেকে ধীরে ধীরে পর্যটক ফিরতে শুরু করেন। এখন অধিকাংশ এলাকা পর্যটকদের জন্য খোলা। যদিও বৈসারণের কিছু জায়গায় এখনও সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। স্থানীয়দের মতে, পর্যটকরা নতুন করে ভরসার আলো খুঁজে পাচ্ছেন। ছোট গেস্টহাউস, খাবারের দোকান, গাড়িচালক ও গাইডদের কাজে গতি ফিরেছে। ঘোড়াসওয়াররাও নিয়মিত উপার্জন করতে পারছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল বাসিরের কথায়, এই এক বছরে কাশ্মীরীদের সামাজিক বন্ধন মজবুত হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনও গত এক বছরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এবার থেকে পহেলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী, গাইড, ঘোড়সওয়ার বা যেকোনো পরিষেবা প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করতে পারবেন পর্যটকরাই। ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পূর্ণ পরিচয় দেখা যাবে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের তথ্যও জানা যাবে। প্রশাসনের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তাজনিত ভয় কাটাতেই এই পদক্ষেপ। সরকারি নিয়ম মেনে নিজেদের সঠিক পরিচয় পুলিশকে জানাতে হবে ব্যবসায়ীদের। অন্যথায় ব্যবসার অনুমতি মিলবে না। সবার পরিচয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করবে পুলিশ। সব ঠিক থাকলে তাঁদের দেওয়া হবে একটি ইউনিক কিউআর কোড। যা সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীকে। যাতে পর্যটকরা চাইলেই কিউআর কোড দেখতে পারেন এবং মোবাইল ফোনে ওই কোড স্ক্যান করে পরিষেবা প্রদানকারীর সম্পূর্ণ তথ্য জেনে নিতে পারেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে খুশি ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রতারণা কমবে। সঠিক ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন। গ্রীষ্মের মরসুম সামনে রেখে স্থানীয়দের আশা, পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে শীঘ্রই।