


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষা মরশুম শুরু হওয়ার আগেই বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি মেরামতি কাজের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দেড়শো কোটি টাকা বরাদ্দ করল সেচদপ্তর। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বাজেটে বরাদ্দ অর্থ থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। এপ্রিল মাসে নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত সহ বিভিন্ন কাজ জোরকদমে শুরু করে দেওয়া যায়, তাই টাকা বরাদ্দ করার নির্দেশিকা ফেব্রুয়ারির শেষে জারি করে দিয়েছে দপ্তর। সেচদপ্তরের কোন ডিরেক্টরেট কত টাকা করে পাবে, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সাউথ ডিভিশনকে সবথেকে বেশি ৩৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। নর্থ ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।
বর্ষা শুরু হওয়ার অনেক আগে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কাজ শুরু করা খুবই জরুরি। এই কারণে অর্থ বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি জারি করে দ্রুত টেন্ডার ডাকার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করতে বলা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যে বিষয়টি যুক্ত, তার কাজে যাতে কোনওরকম দেরি না হয়, তার জন্য সক্রিয় রয়েছে দপ্তর। বর্ষাকাল আসার আগে এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তখন অতি বৃষ্টিতে বাঁধের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাঁধের জরুরি কাজ করতে দেরি করার কোনও ঝুঁকি দপ্তর নিচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
সেচদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মী সংগঠনের প্রবীণ নেতা মনোজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাড়াতাড়ি কাজ করতে গিয়ে যাতে কোনও খামতি না হয়, সেদিকে নজর রাখা দরকার। আরও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন আছে। দপ্তর সূত্রে খবর, দরকারে আরও টাকা দেওয়া হবে। কাজ যাতে ঠিকমতো হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। স্লুইস গেট, নদী বাঁধ মেরামতি সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ বর্ষার আগেই করা হবে।