


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংকে তাঁর উত্তরসূরি নরেন্দ্র মোদি যত সমালোচনাই করুন না কেন, সময়ের হিসাব বলছে, ঋণের বোঝা সামাল দিতে ব্যর্থ বর্তমান সরকার। ইউপিএ জমানার শেষে ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতের ঋণের বোঝা ছিল ৫৬ লক্ষ কোটি টাকা (৫৬,৫১,৪৮৪.২২ কোটি টাকা)। আগামী অর্থবর্ষের শেষে (৩১ মার্চ ২০২৭ সাল) সেই অঙ্কটিই দাঁড়াবে ২১৪ লক্ষ কোটি টাকা (২১৪,৮২,০৫০.৪১ কোটি টাকা)। ফলে আজ যে নিষ্পাপ শিশু জন্মাচ্ছে, অজান্তে তাঁর মাথাতেও চাপছে ঋণের বোঝা। স্রেফ গত ১০ বছরে মোদি জমানায় ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২২ লক্ষ কোটি টাকা। আর মনমোহন জামানার তুলনায় তা বেড়ে হয়েছে ১৪০ লক্ষ কোটি। ঋণভার কমাতে সরকার বহু ক্ষেত্রে ভরতুকি কমিয়ে দিলেও তা সামাল দিতে ব্যর্থ।
গত বছরই বাজেট পেশের সময় সরকারের আনুমানিক হিসাব ছিল, চলতি বছরের শেষে দেশি-বিদেশি ঋণ এবং দায় (ডেট অ্যান্ড লায়াবিলিটিজ) হবে ১৯৬ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু বেড়ে গিয়েছে বোঝা। সরকারই সংসদে জানাচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চে গিয়ে ভারতের ঋণের অঙ্ক হবে ১৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে সরকার যে হিসাব কষতে ব্যর্থ, তা সরকারের তথ্যেই স্পষ্ট।
এই আবহে আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলেচনা। সরকারকে কোণঠাসা করতে তৈরি কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা
গান্ধী, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাজেটে বাংলার বকেয়া মেটানোর কোনো দিশা তো দূর, উল্লেখযোগ্য নতুন কোনও প্রকল্প ঘোষণা না হওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ তৃণমূল। তাই বাংলার বঞ্চনার ইস্যুতে সরব হয়েই সরকারকে আক্রমণের অস্ত্রে শান লাগিয়েছেন অভিষেক। সংসদে পেশ হওয়া তথ্য বলছে, মোদি জমানায় ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪০ লক্ষ কোটি টাকা। স্রেফ দশ বছরেই ১২২ লক্ষ কোটি। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের ঘাড়ে ঋণের বোঝা ৭৪ লক্ষ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চে গিয়ে সেই অঙ্কই দাঁড়াবে ১৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। আগামী অর্থবর্ষের শেষে ২১৪ লক্ষ কোটি টাকা। ‘পপুলেশন ওয়ার্ল্ডমিটার’ মোতাবেক, এখন ভারতের আনুমানিক জনসংখ্যা ১৪৭ কোটি। ফলে অর্থনীতির অঙ্কে গড়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথায় এখনই ঋণ ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৩৬ টাকা। আগামীতে তা আরও বাড়বে। যদিও দেশের এই ঋণ বা দায় মেটানো সরকারেরই মাথাব্যথা। নাগরিকদের সেখানে কোনও ভূমিকা নেই। কিন্তু দেশ যত বেশি ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, সাধারণ নাগরিকের উপরই পরোক্ষে বাড়ছে চাপ। ‘সৌজন্যে’ মোদি!