নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনপ্রিয় পর্যটন ক্ষেত্র দীঘার আইনশৃঙ্খলা ও নজরদারির জন্য আলাদা করে উচ্চ পদমর্যাদার এক আধিকারিক চায় কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি একটি মামলার সূত্রে দীঘার জন্য একজন ডেপুটি পুলিস কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ করতে বলেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
বিশেষত দীঘায় হোটেলগুলিতে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটু বেশি টাকায় গ্রাহক পাওয়ার জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু যাচাই না করেই হোটেল ভাড়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার এক মহিলার অভিযোগ, গত বছর বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তারপর গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। অভিযোগ, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওই মহিলাকে দীঘা নিয়ে যায় ওই যুবক। দীঘায় গিয়ে একটি হোটেল ভাড়া করে সে। মহিলার দাবি, তিনি যুবকের সঙ্গে একই ঘরে থাকতে অস্বীকার করেন। আর তখনই নিজের কাছে থাকা বন্দুক ঠেকিয়ে মহিলাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করে সে। এরপর মহিলার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে মহিলার অশ্লীল ফটো ও ভিডিও তোলে সে। সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দু’দিন ধরে ওই যুবক তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। কোথাও বিষয়টি জানালে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয় সে।
দীঘা থেকে ফিরে আসার পর ওই যুবকের বিরুদ্ধে বাঁশদ্রোণী থানায় অভিযোগ জানান ওই মহিলা। বাঁশদ্রোণী থানা ‘জিরো’ এফআইআর দায়ের করে সেটি দীঘা থানায় পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ দীঘা থানার পুলিস দীর্ঘদিন কোনও তদন্ত না করায় আপাতত দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ওই যুবক। তারপরই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা।
সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আপাতত দীঘা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি পুলিস কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্বভার দিয়েছেন বিচারপতি। ওই যুবককে দেশে ফেরাতে অবিলম্বে বিদেশ মন্ত্রক ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ করারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আর ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে শুধুমাত্র দীঘার জন্য একজন ডেপুটি পুলিস কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ করতে বলেছেন বিচারপতি।