Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জরাজীর্ণ ভবনে হেঁটজাড়ি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঝুঁকি নিয়ে চলছে পরিষেবা, সংস্কারের দাবি

পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের গুগুই পঞ্চায়েত সংলগ্ন হেঁটজাড়ি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রই এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত এই ভবনটি দীর্ঘকাল সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

জরাজীর্ণ ভবনে হেঁটজাড়ি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র  ঝুঁকি নিয়ে চলছে পরিষেবা, সংস্কারের দাবি
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দূর্বাদল চন্দ্র, ঝালদা: পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের গুগুই পঞ্চায়েত সংলগ্ন হেঁটজাড়ি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রই এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত এই ভবনটি দীর্ঘকাল সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ছাদের চাঙড় খসে পড়া থেকে শুরু করে দেওয়ালের ফাটল সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা। বর্তমানে মাত্র দু’টি ভাঙাচোরা ঘরের মধ্যে কোনওরকমে চলছে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তটস্থ থাকতে হয় সকলকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর হেঁটজাড়ি, বাড়ুয়াডি, বাগানডি, কাশীডি ও কেন্দুয়াডি সহ মোট ন’টি গ্রামের মানুষ নির্ভরশীল।

Advertisement

প্রতিদিন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে গ্রামের মানুষরা আসেন। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ এবং বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধপত্র এই কেন্দ্র থেকেই বিলি করা হয়। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ভবনটি একেবারেই ভগ্ন প্রায় অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে সরকার উদাসীন। এইভাবেই চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে আমরাও চাই এলাকায় সুন্দর একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র হোক সুন্দর স্বাস্থ্য পরিষেবা চলুক।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে খবর, বর্তমানে এখানে একজন কমিউনিটি হেলথ অফিসার, একজন এএনএম ও একজন পুরুষ মাল্টি টাস্কিং স্টাফ ছাড়াও পাঁচজন আশা কর্মী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভগ্নপ্রায় এই ভবনে বসে কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, যাঁরা মহিলা স্টাফ রয়েছেন, তাঁদের দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করতে হয় কিন্তু কেন্দ্রে বসার মতো নুন্যতম জায়গা নেই। এমনকি, শৌচালয়গুলির অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়, যার ফলে মহিলা কর্মীদের চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজা ও জানালাগুলিও ঠিক নেই, যার ফলে ওষুধের বক্স ও নথিপত্র সুরক্ষিত রাখা দায় হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রটিকে অবিলম্বে ভেঙে নতুনভাবে দোতলা ভবন নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ উন্নত পরিষেবা পাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণা পরামানিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বেহাল দশা চললেও প্রশাসনিকস্তরে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পেছনের অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে সিরকাবাদ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপ্তেশ সরেন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তা আমরা জানি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দপ্তর থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রদান করা হবে। এখন দেখার কবে এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুপরিকাঠামো যুক্ত একটি ভবন তৈরি হয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ