Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

৩ বছরের ছেলে আছে মারবেন না, আকুতি না শুনেই গুলি ভরতকে

তিনদিন ধরে কাশ্মীর ঘুরে দেখেছেন। শেষ গন্তব্য ছিল বৈসরণ। ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’-এর সুখস্মৃতি নিয়ে বেঙ্গালুরুতে নিজেদের বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন ভূষণ দম্পতি।

৩ বছরের ছেলে আছে মারবেন না, আকুতি না শুনেই গুলি ভরতকে
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: তিনদিন ধরে কাশ্মীর ঘুরে দেখেছেন। শেষ গন্তব্য ছিল বৈসরণ। ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’-এর সুখস্মৃতি নিয়ে বেঙ্গালুরুতে নিজেদের বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন ভূষণ দম্পতি। মঙ্গলবারের জঙ্গি হামলা কেড়ে নিয়েছে পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ভরত ভূষণকে। স্বামীকে হারিয়ে বিধ্বস্ত স্ত্রী সুজাতা। তিন বছরের ছেলের সামনেই স্বামীকে জঙ্গিরা গুলি করে মারল! অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে এখনও শিউরে উঠছেন তিনি। পেশায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুজাতা জানান, ‘১৮ এপ্রিল ছুটি কাটাতে কাশ্মীর গিয়েছিলাম। পহেলগাঁও ছিল আমাদের শেষ গন্তব্য। টাট্টু ঘোড়া নিয়ে আমরা মঙ্গলবার বৈসরণ পৌঁছই। সেখানে আমাদের সন্তানের সঙ্গে কত খেললাম। কত ছবি তুললাম। কাশ্মীরের ঐতিহ্যশালী পোশাক পরতে পরতে আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই।’ খুনের আগে ভরত ভূষণের ধর্ম জানতে চেয়েছিল জঙ্গিরা। তিনি হিন্দু জানার পরেই, তাঁকে খুন করা হয়। এমনটাই দাবি ভরতের বাবা চেন্নাবীরাপ্পার। 

Advertisement

সুজাতা জানান, ‘তাকিয়ে দেখি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইতিউতি দৌড়তে শুরু করেছে। তবে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছনোর আগে অনেকেই ফাঁকা মাঠের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে।’ প্রথমে গুলির শব্দ শুনে তাঁদের মনে হয়েছিল হয়ত পাখি বা বন্য পশু তাড়ানো হচ্ছে। তবে একটানা গুলির শব্দ ক্রমশ কাছে আসতে থাকলে তাঁদের সম্বিত ফেরে। বুঝতে পারেন জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে সেখানে। আতঙ্কের চোরা স্রোত বয়ে যায়। তাঁরাও লুকোনার জায়গা খুঁজতে থাকেন। সুজাতা বলেন, ‘বৈসরণ একটা ফাঁকা মাঠ। সেই মাঠের মাঝখানে ডানদিক বরাবর ছিলাম। লুকোনোর জায়গা না পেয়ে মাঠের মাঝে থাকা তাঁবুর পিছনে লুকিয়ে পড়ি।’ 
সেখান থেকেই দেখতে পান, কীভাবে পর্যটকদের জিজ্ঞাসাবাদের পর গুলি করে মারা হচ্ছে। এরপর জঙ্গিরা পৌঁছে যায় ভূষণ পরিবারের কাছে। সুজাতা বলেন, ‘এক জঙ্গি আমার স্বামীর কাছে এল। আতঙ্কে তিনি ভালো করে কথা বলতে পারছিলেন না। কেবল নিজের সন্তান রয়েছে জানিয়ে সেই জঙ্গির কাছে প্রাণ বাঁচানোর আর্জি জানাতে পেরেছিলেন। ওরা শোনেনি। গুলি করে মারা হয়।’ 
বৃহস্পতিবার ভোরে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমাবন্দরে পৌঁছয় ভরতের দেহ। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান বেঙ্গালুরু দক্ষিণের সাংসদ তেজস্বী সূর্য এবং রেল মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি সোমান্না। এরপর ছ’টা নাগাদ তাঁর দেহ মাথিকেরের বাড়িতে পৌঁছয়। সেখানে ভরত ভূষণকে শ্রদ্ধা জানান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। এরপর তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য। কর্ণাটক সরকারের পক্ষ থেকে ভরত ভূষণের পরিবারকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ