


সংবাদদাতা, বহরমপুর: চলতি বছর থেকেই জেলায় পেঁয়াজ ও রসুন চাষে ভোলবদল হতে চলেছে। মুর্শিদাবাদের চাষিরা পেঁয়াজ ও রসুনের ফলনে নয়া দিশা দেখাবেন। মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক পেঁয়াজ ও রসুন চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে এমনই দাবি করছেন মুর্শিদাবাদের চারজন চাষি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চাষিদের দাবি, পেঁয়াজ চাষে আমাদের পদ্ধতিগত অনেক ত্রুটি ছিল। তিনদিনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরই ত্রুটিগুলি জানতে পারলাম। চাষের উপযুক্ত মাটি থেকে শুরু করে বীজ, রোগপোকা দমন, সেচ এমনকী ফসল সংরক্ষণের পদ্ধতিরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি বিষয়ে কৃষি বিজ্ঞানীরা হাতে কলমে শিখিয়েছেন চাষিদের। আগামী খরিফ মরশুম থেকেই নতুন পদ্ধতি মেনে পেঁয়াজ ও রসুন চাষে নামছেন বলে তাঁরা জানান। জেলা উদ্যান পালন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রিয়াঞ্জন সানিগ্রাহী বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার চারজন চাষি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। সবাই ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরছেন বলে জানিয়েছেন।
জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়। নওদা, বেলডাঙা-১ ও হরিহরপাড়া ব্লক পেঁয়াজ চাষে এগিয়ে। উদ্যান পালন দপ্তর থেকে রাজ্যের ১৮ জন চাষিকে পেঁয়াজ, রসুন চাষের প্রশিক্ষণের জন্য পুণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দলে ছিলেন নওদা ব্লকের সুজয় মণ্ডল, নুরজামাল মণ্ডল, বেলডাঙা-১ ব্লকের সুব্রত মণ্ডল ও হরিহরপাড়া ব্লকের ইলিয়াস শেখ। গত ৯-১১ ফেব্রুয়ারি সেখানে প্রশিক্ষণ চলে। খরিফ (আর্লি ও লেট) এবং রবি মরশুমে পেঁয়াজ চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পুণেতে।
পরেশনাথপুরের বাসিন্দা সুজয় মণ্ডলের কথায়, প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরই জানতে পারলাম আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি না মেনেই এতদিন চাষ করে এসেছি। দুই ফসলের গুণগত মানই তার প্রমাণ।
চাঁদাবাজের বাসিন্দা নূরজামাল মণ্ডল বলেন, বীজ কেমন হবে, চাষের পর কীভাবে সেচ দিতে হয়, কখন কোন রোগ পোকার আক্রমণ হয় এবং তার প্রতিরোধ সব বিষয়ে কৃষি বিজ্ঞানিরা খুঁটিনাটি শিখিয়েছেন। এখন জেলার আগ্রহী চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পারব। প্রশিক্ষণের খরচ রাজ্যই বহন করেছে।
সারগাছির পেঁয়াজ চাষি সুব্রত মণ্ডল বলেন, পুণে গিয়েই জানতে পারলাম দেশের তিনটি রাজ্যে খরিফ পেঁয়াজের চাষ হয়। নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রবি মরশুম অপেক্ষা খরিফ মরশুমে পেঁয়াজের চাষ বেশি লাভজনক।