


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘শিকার উৎসব’। অতীতে এটি ‘ঐতিহ্যবাহী উৎসব’ হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে তা অপরাধ। ধরা পড়লে জেল শুধু নয় গুনতে হয় জরিমানাও। ফলহারিণী কালীপুজো উপলক্ষ্যে ২৫ এবং ২৬ মে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কিছু অংশে আগে শিকার উৎসব হতো। এর কিছু অংশ এই জেলা লাগোয়া হাওড়ার মধ্যেও পড়ে। এবার ওই দুই দিন ‘জিরো হান্টিং’ অর্থাৎ ‘শিকার শূন্য’ হিসেবে ঘোষণা করে অভিযানে নেমেছে বনদপ্তরের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বনবিভাগ। তাদের সঙ্গে রয়েছে জেলা প্রশাসনও।
শিকার থেকে প্রত্যেকে যাতে বিরত থাকেন সেই সচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে। জঙ্গলে শিকার করলে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ পরিমার্জিত আইন ২০২২ অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ব্যানার, পোস্টার তৈরি করে সেই বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। স্পষ্ট জানানো হচ্ছে, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ‘ঐতিহ্যবাহী শিকার’ বা ‘শিকারে’র জন্য কোনও ছাড় নেই।’
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলমহলে শিকার উৎসব আগে ব্যাপক পরিমাণে হতো। কিন্তু বনদপ্তরের লাগাতার প্রচার ও সচেতনতায় এখন তা প্রায় বন্ধ হতে চলেছে। এ বছর পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম প্রভৃতি জেলাকে শিকার শূন্য করা গিয়েছে। এই শিকার উৎসব ফলহারিণী কালীপুজোর সময় পূর্ব মেদিনীপুর দিয়ে শেষ হয়। মূলত ক্ষিরাই স্টেশন সংলগ্ন জঙ্গলে শিকার হতো। পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএফও অর্ণব সেনগুপ্তের নেতৃত্বে প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়েছে। যাঁরা শিকারে বের হতেন তাঁদের এলাকায় গিয়ে সচেতন করার কাজ হচ্ছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, ২৫ ও ২৬ তারিখ রাতেও বনকর্মীরা জঙ্গল পাহারা দেবেন। সেই সঙ্গে পুলিস-প্রশাসনের কর্মী-আধিকারিকরাও থাকবেন। সকলে মিলে শিকার শূন্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অতীতে শিকার করা বন্যপ্রাণের দেহ ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটত। এখন ট্রেনে জীবিত বা মৃত বন্যপ্রাণ, পশুমাংস নিয়ে গেলে জেল ও জরিমানা।