Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

যোগীরাজ্যে যমজ মেয়ের গলা কেটে খুন বাবার, পুলিশকে ফোন করে অপরাধ কবুল করেন নিজেই!

রক্তে ভেসে গিয়েছে মেঝে। নিথর অবস্থায় পড়ে গলা কাটা ১১ বছরের যমজ মেয়ের দেহ। একটু দূরেই নির্লিপ্তভাবে বসে বাবা। পাশে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র।

যোগীরাজ্যে যমজ মেয়ের গলা কেটে খুন বাবার, পুলিশকে ফোন করে অপরাধ কবুল করেন নিজেই!
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: রক্তে ভেসে গিয়েছে মেঝে। নিথর অবস্থায় পড়ে গলা কাটা ১১ বছরের যমজ মেয়ের দেহ। একটু দূরেই নির্লিপ্তভাবে বসে বাবা। পাশে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র। রবিবার ভোররাতে এমনই হাড়হিম ঘটনার সাক্ষী থাকল যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের কানপুর। যমজ মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়। খুনের পর নিজেই পুলিশকে ফোন করে খবর দেন তিনি। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শশীরঞ্জন মিশ্রাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত পেশায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, শশীরঞ্জন সন্দেহ করতেন স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু দুই মেয়েকে কেন খুন করলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

Advertisement

দুই মেয়ে রিদ্ধি ও সিদ্ধি, ছ’বছরের এক ছেলে ও স্ত্রী রেশমাকে নিয়ে কানপুরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন শশীরঞ্জন। ২০১৪ সালে বিহারের বাসিন্দা শশীরঞ্জন ও শিলিগুড়ির মেয়ে রেশমার প্রেম করে বিয়ে হয়। জানা গিয়েছে, প্রথম প্রথম সব ঠিক থাকলেও পরের দিকে মদ খেয়ে স্ত্রীকে মারধর করতেন অভিযুক্ত। ঘুমের ওষুধও খেতেন। স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ইদানিং এমনই সন্দেহে ঝামেলা হত। সন্দেহের বশে ঘরের মধ্যে একাধিক সিসি ক্যামেরাও লাগিয়েছিলেন। স্ত্রী রেশমার কথায়, ‘অদ্ভুত আচরণ করতেন তিনি। অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন। প্রায়শই আমাকে বলতেন, ছেলেকে নিয়ে অন্য কোথাও থাকো। আমি একাই মেয়েদের লালন-পালন করব। আমাকে মেয়েদের সঙ্গে মিশতে দিতেন না। এমনকী ওদের ঘরেও ঢুকতে দিতেন না।’
এদিন রাতে খাওয়ার পর মেয়েদের ঘরে নিয়ে যান শশীরঞ্জন। আড়াইটের দিকে এক মেয়েকে ওয়াশরুমে নিয়ে যান। এরপর ঘরে গিয়ে আলো বন্ধ করে শুয়ে পড়েন। ঘণ্টা দুয়েক পর শশীরঞ্জন পুলিশকে ফোন করে জানান, দুই মেয়েকে গলা কেটে খুন করেছেন। ততক্ষণে বাকিরাও হাজির হয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শশীরঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এনিয়ে ডিসিপি দীপেন্দ্রনাথ চৌধুরী জানান, দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ