


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবসরের পর ইপিএফ অ্যাকাউন্টের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ক্রমেই বাড়ছে। নির্ধারিত বয়সসীমার আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণ করলে কর্মী পিএফ (ইপিএফ) অ্যাকাউন্টে কতদিন পর্যন্ত মিলবে সুদ? বা বেসরকারি সংস্থার কোনো কর্মচারী যদি নির্দিষ্ট বয়সে অবসর নেন, তাহলে কি অব্যবহিত পরেই তুলে ফেলতে হবে তাঁর ইপিএফ অ্যাকাউন্টে সঞ্চিত সমস্ত টাকা? সেক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের কতদিন পর নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট ইপিএফ অ্যাকাউন্ট? প্রশ্ন একাধিক। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের মধ্যে সংশয় এবং ধোঁয়াশা রয়েছে পুরোমাত্রায়। এই বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতন করতে এবার উদ্যোগী হচ্ছে শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থা কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (ইপিএফও)। সরকারি সূত্রে খবর, এসংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় বিভ্রান্তি কাটাতে সচেতনতামূলক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে শ্রমমন্ত্রক।
ইপিএফওর আওতাভুক্ত দেশের যেসব বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান, তাঁরা বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ইপিএফের আওতায় থাকেন। প্রতি মাসে ইপিএফের আওতাধীন কর্মীদের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) এবং মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ১২ শতাংশ অর্থ কন্ট্রিবিউশন হিসাবে জমা পড়ে অ্যাকাউন্টে। ওই কর্মীদের প্রত্যেকের হয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা আরও ১২ শতাংশ অর্থ পিএফ তহবিলে জমা দেয়। অর্থাৎ, অবসরের পরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যবিত্ত কর্মীদের কাছে ইপিএফে সঞ্চিত অর্থ এবং তার বার্ষিক সুদ একটি অন্যতম ভরসার জায়গা। ফলে ইপিএফ অ্যাকাউন্ট আচমকা নিষ্ক্রিয় হলে কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যাবে, তা ভেবেই রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু প্রবীণ মানুষ।
এহেন পরিস্থিতিতে ইপিএফও জানিয়েছে, যদি কেউ ৫৫ বছরের আগেই চাকরি থেকে অবসর নেন, তাহলে তাঁর ৫৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত ইপিএফ অ্যাকাউন্ট সচল থাকবে। এমনকি সুদও মিলবে। কিন্তু তারপরই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে ওই গ্রাহকের ইপিএফ অ্যাকাউন্ট। একইসঙ্গে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন জানিয়েছে, যদি বেসরকারি সংস্থার কোনো কর্মী ৫৫ বছর বা তার পরে অবসর গ্রহণ করেন, তাহলে অবসর গ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত তাঁর ইপিএফ অ্যাকাউন্ট সচল থাকবে। ওই তিন বছর মিলবে সুদও। তারপর তা ইন-অপারেটিভ হয়ে যাবে। সেইমতো কর্মী পিএফের প্রবীণ গ্রাহকদের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে ইপিএফও।