


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুর-২ পঞ্চায়েতের ছোট্ট এলাকা পাথরডাঙা। জঙ্গল লাগোয়া এই গ্ৰামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পাতকুয়োর জল খেতেন। পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার সাব মার্সিবল বসানো হয়েছে। এর ফলে গ্ৰামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা মিটেছে। বিনপুর -২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, পাথরডাঙায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যা ছিল। পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে সোলার পাম্প বসানোয় দেড়শোর মতো পরিবার এখন পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে।
বিনপুর -২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা কিন্তু দীর্ঘদিনের। টিউবওয়েল বসানো হলেও পর্যাপ্ত জল পেতেন না বাসিন্দারা। স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছিল পাত কুয়োর জল। গ্রীষ্মকালে পাত কুয়োর জল অনেক নীচে নেমে যায়। বর্ষায় কুয়োর জল ঘোলাটে হয়। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বিনপুর -২ ব্লকে পরিকল্পনা মাফিক পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। টিউবওয়েলের পরিবর্তে সাব মার্সিবল বসানোর কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের পর থেকে সোলার সাব মার্সিবল পাম্প বসানোর উপর জোর দিতে থাকে প্রশাসন।
বিনপুর -২ ব্লকেজঙ্গল ও পাহাড়ী এলাকার জন্য গ্রামগুলির মধ্যে দূরত্ব মাইলখানেক। যারজেরে ছোট, ছোট পাড়া যেন এক একটি গ্ৰামের চেহারা নিয়েছে। সেই কারণে পাড়া ধরে সাব মার্সিবল বসানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। পানীয় জলের সংকট যেখানে তীব্র, সেখানে অগ্ৰাধিকারের ভিত্তিতে সোলার সাব মার্সিবল বসানো শুরু হয়।
পাথরডাঙার বাসিন্দা রাখাল মাহাত বলেন, গ্ৰামে টিউবওয়েল থাকলেও পর্যাপ্ত জল পেতাম না। বাসিন্দারা কুয়োর জল খেতে বাধ্য হতেন।সোলার পাম্প বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা দাবি তুলেছি। এবারসেই দাবি পূরণ হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা মিটেছে।
অপর বাসিন্দা অর্জুন মালাকার বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আমাদের বাস। জলের অভাবে চাষবাস ভালো হয়না। এতদিন পানীয় জলটুকু সংগ্ৰহ করাই কঠিন ছিল। বর্তমান সরকার অবশ্য সেচ ও পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে।
বেলপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধানজয়দেব সিংহর কথায়, এই এলাকায় মাইল খানেক দূরে, দূরে ছোট, ছোট নিয়ে এক একটি বসতি গড়ে উঠেছে। প্রতিটি এলাকায় একসঙ্গে সাব মার্সিবল বসানোর কাজ কঠিন ছিল। ২০১৩ সাল থেকেছোট বসতি এলাকা ধরে ধরে পানীয় জল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেকাজে আমরা অনেকটাই সাফল্য পেয়েছি।