সংবাদদাতা, বালুরঘাট: রাজ্য যোগ্যদের তালিকা জেলা শিক্ষা দপ্তরে পাঠালেও বিভ্রান্তির জন্য সেটি সামনে আনা হল না। এর জেরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শিক্ষক মহলে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৫১১ জন চাকরিহারাদের মধ্যে ৩৭৪ জন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও কেন তালিকা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় পাঠানো তালিকায় বদলি নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম ঢুকে আছে। স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা চিন্তায় পড়েছেন। সমস্যা সমাধানে একটি শিট জেলার প্রধান শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ অশিক্ষক কর্মীরা চাকরি পেয়েছেন, সেই তথ্য পূরণ করে বুধবারের মধ্যে জমা করতে হবে। নির্দেশ পেয়েই প্রধান শিক্ষকরা সেই কাজ করে বিকেলের মধ্যে তথ্য জমা দিয়েছেন।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (উচ্চ মাধ্যমিক) দেবাশীষ সমাজদার বলেন, আমাদের জেলায় ৫১১ জনের মধ্যে ৩৭৪ জন যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন, এমনটা আমরা জানি। আমাদের কাছে যে তালিকা এসেছে, সেখানে অন্য জেলার শিক্ষক -শিক্ষিকাদের নাম ঢুকে আছে। তাই আমরা প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের নাম পাঠানোর জন্য। সেই তথ্য জমা হলে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারব। আমাদের মূল চিন্তা এখন যোগ্য শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
নিখিলবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক অনিমেষ লাহিড়ীর কথায়, খুবই উদ্বেগের বিষয়। বাকি জেলাগুলি যোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। আমাদের জেলায় এমন কেন হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। রাজ্য সরকার যোগ্যদের নাম পাঠিয়েছে। তারপরেও প্রধান শিক্ষকদের কাছে কেন নতুন করে চাকরিহারাদের নাম চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
উত্তর দিনাজপুরে যোগ্যদের তালিকা আসার পর অবশ্য প্রত্যেকটি স্কুলে মেল করেছে জেলা শিক্ষা দপ্তর। বিদ্যালয় পরিদর্শকের তরফ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগ্যদের বেতন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অয়োগ্য শিক্ষকদের বিষয়েও শুরু হয়েছে খোঁজখবর।
মালদহ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বাণীব্রত দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তালিকা এসেছে। কাজ চলছে। নিজস্ব চিত্র।